গাড়িতে নকল টায়ার-পোড়া মবিল পেলে ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৬

ঢাকা: নকল টায়ার, পোড়া মবিল নিয়ে কোনো গাড়িকেই রাস্তায় নামতে দেবে না সরকার। টায়ায়-মবিলে বিএসটিআই’র মান যাচাই পরীক্ষায় পাস করেই কেবল রাস্তায় চলাচলের সুযোগ পাবে গাড়িগুলো। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়কে সুপারিশের চিঠি পাঠাচ্ছে এলজিইডি। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় সোমবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মবিল নির্দিষ্ট সময় পরপর বদল করার নিয়ম মানা হয় না। পোড়া মবিল বারবার রিফাইন করে বিক্রি হয়। অনেক গাড়িতে নকল টায়ার ব্যবহার হয়। আসল টায়ারে একটি বিশেষ সুতোর মতো থাকে, যা টায়ারটির কার্যকারিতা বাড়ায়। নকল টায়ারে এ সুতোর মতো বস্তুটি থাকে না। সামনের টায়ারটি বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারায় ও অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে।

গাড়ির মাপ, গণপরিবহনের আসন সংখ্যা ও বিন্যাস, ট্রাকের মালবহনের ধারণ ক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করেন বলে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান।

‍গত ২৪ মার্চ রাঙ্গার নেতৃত্বে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি ১১ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিকদের সঙ্গে আরেকটি সভা করবে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তখন নেওয়া হবে বলে জানান রাঙ্গা।

ঠিক নিয়মে ট্রাক-বাস, কাভার্ড ভ্যানসহ এ ধরনের যানবাহন প্রস্তুতে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয় সূত্র। ঘাপলা পেলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) গাড়ির রেজিস্টেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। মোটরযান বিধিমালা-১৯৪০ মেনে গাড়ির আয়তন ও ওভারহ্যাংগ ঠিক রাখতে বাধ্য করা হবে বলে সূত্রটি জানায়।

প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান বলেন, বিআরটিএ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কারিগরি নির্দেশ না মেনে ইচ্ছে মতো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের আকার-আকৃতি বদলে দেওয়া হচ্ছে, যা মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলোর ধারণক্ষমতার অনেক বেশি পণ্য ও মাল বোঝাই করে মহাসড়কের ক্ষতি হচ্ছে। এসব অনিয়মও ঠিক করা প্রয়োজন। সেসব দিকে নজর দিতে এবং সমাধানের ব্যবস্থা ও সুপারিশের জন্য এ সভা।

এতে বুয়েটের পুর-কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী প্রমুখ অংশ নেন।