বাঁধ ভেঙ্গে উদগল ও বরাম হাওরের ফসল পানির নীচে

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৬

13062436_574450386048206_369580887538799908_n
কালনী-

দিরাই কালনী নদীর পশ্চিম পাড়ের কেজাউড়ার বাঁধ ও সন্তোষ পুর সংলগ্ন মাছুয়া খারার বাঁধ ভেঙে বরাম ও উদগল হাওরের পাকা আদা পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। পাউবো’র সীমাহীন দূর্নীতির কারণেই বৈশাখীর প্রথম দিকেই বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের কষ্টের ফসল। হাওর পাড়ের কৃষকদের আহাজারী। বরাম হাওর পাড়ের ২০-২২ জন কৃষকের সাথে আলাপ করলে তারা জানান গত ৪ দিন আগে কেজাউড়ার বাঁধ ভেঙে বরাম হাওরে পানি ডুকে এতে হাওরের ৪ ভাগে ৩ ভাগ ফসলি জমি পানির নীচে তলিয়ে যায়, ধান কাটার শ্রমিকের অভাবে আমাদের চোখের সামনেই পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে গেল, আমাদের চোখ দিয়ে দেখা ও কান্না ছাড়া কিছুই করার নেই, তারা ক্ষোভের সাথে বলেন সরকার প্রতিবছর হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য লাখ লাখ টাকা দিলেও সরকারী কর্মকর্তা ও পিআইসি’র লোকেরা মিলে অধিকাংশ টাকাই পকেটে ঢুকান, কোন বছরই সরকারের বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি এবারও তাই হয়েছে যদি দুই মাস আগে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বাঁধে মাটি কাটা হতো তাহলে পানির ধাক্কায় বাঁধ ভেঙ্গে যেত না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে মাছুয়া খারার বাঁধ ভেঙে উদগল হাওরের পানি ডুকছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই নিজের আদা পাকা ধান কাটছেন, ধান কাটার শ্রমিক না থাকায় অনেকেই হতাশ। উদগল হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান পাউবো’র সীমাহীন দূর্নীতি সময় মত বাঁধের কাজ না করে পানি আসার কয়েক দিন আগে মাটি কাটায় সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ধ্বসে পড়ে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম কেজাউড়া বাঁধ ভেঙে বরাম হাওরে ও মাছুয়া খারার বাঁধ ভেঙে উদগল হাওরের পানি ঢুকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন বরাম হাওরে প্রায় ৬০ ভাগ ও উদগল হাওরে ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে, বরাম হাওরে ৩২০০ হেক্টর ও উদগল হাওরে ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষকেরা জানান বরাম হাওরে ৪০ ও উদগল হাওরে ২৫ ভাগের বেশী ধান কাটা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমানের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মাঠ কর্মকর্তা মাহমুদুল করিম ফোন ধরেন নি।