সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুক্তি চেয়ে লন্ডনে সমাবেশ

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৬

শফিক রেহমানের মুক্তি চেয়ে লন্ডনে সমাবেশ

বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবিতে লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে শফিক রেহমানের ছেলে লন্ডনে বসবাসরত সুমিত রেহমানও বক্তব্য রাখেন বলে ‘ফ্রি শফিক রেহমান ক্যাম্পেইন’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বুধবারের এই সমাবেশে বক্তারা শফিক রেহমানের গ্রেপ্তারকে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর বাংলাদেশ সরকারের ‘নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা’ আখ্যায়িত করে গ্রেপ্তারকৃত সব সাংবাদিকের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিও জানান। শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে ধরে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চক্রান্তের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতিতে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শফিক রেহমান এক সময় বিবিসিতে কাজ করতেন যুক্তরাজ্যে তার নাগরিকত্ব রয়েছে। সমাবেশে জানানো হয়, লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসের মাধমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ও স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শফিক রেহমানের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদসদের দাবীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ব্যাখ্যা দিতে জোর দাবি জানানো হবে। শফিক রেহমান প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘সাপোর্ট লাইফ ইউকে’র সংগঠক সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিন ও সলিসিটর বিপ্লব পোদ্দার। সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এম হাসনাত হোসেইন, কে এম এ মালেক, আলিয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মাহাদী ও বারিস্টার মাজিবুর রহমান, কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী, শফিক রেহমানের ছেলে সুমিত রেহমান এবং সাংবাদিক এমদাদুল হক চৌধুরী। সাপোর্ট লাইফ ইউকে ‘ফ্রি শফিক রেহমান ক্যাম্পেইন’র অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কার্যক্রম জানাবে বলে সমাবেশে জানানো হয়। ‘জয়ের ফিনান্সিয়াল ডিলিং নিয়ে কাজ করছিলেন শফিক রেহমান’ সমাবেশে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট শফিক রেহমানের ছেলে সুমিত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার বাবার মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, বাবা আমাকে আগেই বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্রের ফিনান্সিয়াল ডিলিং নিয়ে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড কামেরুনসহ অনেক রাজনীতিককেই তাদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে হয়েছে। আমার বাবা একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, তিনি হয়তো প্রধানমন্ত্রীপুত্রের আয় ও সম্পদের অনুসন্ধান করছিলেন, তিনি হয়ত এক্ষেত্রে অনেক দূর গিয়েছেন। তিনি হয়তো ওয়াজেদ জয়ের কাছে জানতে চাইতেন- আপনার অর্থ কোথায়? আপনার কতো সম্পদ (আয়) আছে? এবং আপনি কতো ট্যাক্স দেন? কোথায় দেন? তার এটা খুবই নায্য প্রশ্ন থাকত প্রধানমন্ত্রীপুত্রের প্রতি। বাবার মুক্তির জন্য ব্রিটিশ সরকারকে চাপ দিতে পার্লামেন্টে বিতর্ক আয়োজনে একটি ই-পিটিশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন সুমিত রেহমান। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সে বিষয়ে বিতর্ক তোলার জন্য দরখাস্তটিতে দেশটির ১০ হাজার লোকের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে ঢুকে দরখাস্তটিতে স্বাক্ষর করা যাচ্ছে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।