শাল্লায় হাওরের রাস্তা নিয়ে কৃষকেরা বিপাকে

প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৬

শাল্লা সংবাদদাতাঃ
শাল্লার হাওরগুলোর ধান উঠানোর রাস্তার (গোপাট) বেহালদশার কারণে কৃষকরা তাদের কষ্টে অর্জিত বোরো ফসল নিয়ে বিপাকে পরেছেন। অতিবৃষ্টির কারণে হাওরে ডুবরার পানি জমে রাস্তাগুলো কাদা জমে গর্ত হয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে রাস্তা দিয়ে পরিবহন চলা দূরের কথা মানুষের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায়ও কৃষক ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাকা, আধাপাকা ধান কেটে রাস্তার বেহালদশার কারণে বাড়িতে আনতে পারছেন না। শুক্রবার উপজেলার ছায়ার হাওরের মামুদনগর, মুক্তারপুর,সুখলাইন, আঙ্গারুয়া,নওয়াগাঁও,আনন্দপুর, নিয়ামতপুর,ভান্ডার হাওরের হরিনগর, শিবপুর,নয়াগাও,হবিবপুর গ্রামের হাওরে রাস্তার কারণ হাওরে এই অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে উজানের পানিতে দাড়াইন নদী ভরপুর, অন্যদিকে বৃষ্টির পানিতে হাওরগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে অধিক মজুরি দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। অন্য বছর যেসব ধান কাটার শ্রমিক বাইরের জেলা থেকে আসত এবছর তারাও আসেনি। এই অবস্থায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে কৃষকদের। আঙ্গারুয়া গ্রামের কৃষক পবিত্র দাস বলেন, গিরস্তির কথা আর কিতা কইমু নিজের চোখে দেখইন। আমি ৪৮ কেড় (কেদার) (২৮ শতকে ১ কেড়) জমিতে ধান লাগাইছি কাটছি মাত্র ৭ কেড়। কাটার লোকও এবার আইছেনা। যে ধানডি কাটছি এই ধানের মুড়িডিও গোপাট (রাস্তা) খারাপ হওয়ায় বাড়িতে নিতে ফাররাম না। মামুদনগর গ্রামের কৃষক হবিবুর রহমান হবিব বলেন,কৃষি কাজ আর করা যাবে না। এখন কৃষিকাজে লোকসান হয়। এক কেদার জমিতে ধান উৎপাদন করতে যে পরিমাণ খরচ হয় তা ধান বিক্রি করে দেখা যায় লস (লোসকান)। এক কেদার জমির ধান কাটতে এবছর ৫ থেকে ৬ মন ধানের টাকা যাচ্ছে। টাকায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার তাও আবার কাটার লোকের সংকট। হবিব মিয়ার সাথে আরো কয়েকজন কৃষক এসময় বলেন, হাওরের রাস্তাগুলো যদি পাকা হয় তবে কৃষকদের কৃষি কাজে আগ্রহ সৃষ্টি হবে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আসিফ বিন ইকরাম হাওরের রাস্তার উন্নয়ন কাজের কথা স্বীকার করে বলেন, এই কাজগুলো করা খুবই জরুরী। হাওরের রাস্তার উন্নয়ন করার লক্ষ্যে এবং এলাকার কৃষকের দাবি বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে যোগাযোগ করবেন বলের তিনি জানান।