তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রায়ের পুনঃশুনানীর দাবী

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পুনঃশুনানির দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি অবসরের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর ১৬৮ মামলা পুনঃশুনানি করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের রায়টিও ১৬ মাস পর স্বাক্ষর করা হয়েছিল। এ কারণেই খন্দকার মাহবুব হোসেন ওই মামলাটির পুনঃশুনানির দাবী করেছেন বলে জানান তিনি। খন্দকার মাহবুব বলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই যদি সিদ্ধান্ত হয়(অবসরের পর রায় লেখা অবৈধ) তাহলে একইভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ বলে দেয়া রায়ও পুনঃশুনানি করতে হবে।তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ বলে হাইকোর্টের স্পেশাল বেঞ্চ রায় দিয়েছিল। সেই রায়টি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিনজন বিচারক অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক,সুতরাং এটি অবৈধ। বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া এই রায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন এই রায়টি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের অবসরের ১৬ মাস পর স্বাক্ষর করেন। একজন আইনজীবী হিসেবে আমরা আগেও বলেছি অবসরে যাওয়ার পর খায়রুল হক যে রায় স্বাক্ষর করেছেন সেটি অবৈধ। আমরা আশা করছি বর্তমান প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত দেবেন। এবং আমরা মনে করি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে যে রায় দেয়া হয়েছিল, সেটা অবৈধ রায়। এটাও পুনঃশুনানি হওয়া উচিত। অবসরে যাওয়া বিচারপতিরা শপথের মধ্যে থাকেন না উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব বলেন অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা হয়েছে এ কারণে ১৬৮ মামলা পুনঃশুনানি হবে। যেহেতু সংবিধানের আলোকে অবসরের পর বিচারপতির শপথ বহাল থাকে না এবং তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো হয়ে যান, তাই তাদের রায় অবৈধ। একইভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা খায়রুল হক সাহেবের রায়ও অবৈধ। বিষয়টি আপনারা আদালতের নজরে আনবেন কি না জানতে চাইলে খন্দকার মাহবুব বলেন আদালতের নজরে আনা হবে কি না তা ভবিষ্যত বলে দেবে।