দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো-আইজি

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও সতর্ক ও তৎপর থাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক। সোমবার পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন। পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সভায় সব পুলিশ কমিশনার,রেঞ্জ ডিআইজি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ এবং পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, শুধুমাত্র মামলা নিয়ে, তদন্ত করে সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ প্রতিরোধে জনগণ তথা কমিউনিটি পুলিশকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পুলিশি কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। প্রতিশোধমূলক পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জঙ্গি কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ভাড়াটিয়া, ভাসমান ও অস্থায়ী আগন্তকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে হবে। অপরাধী ও সন্ত্রাসী চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিকে সম্পৃক্ত করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান তিনি। আইজিপি বলেন, মাদক আমাদের সমাজে বড় সমস্যা। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে মাদকের ক্ষতিকর দিকসমূহ তুলে ধরতে হবে। তাদের মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আইজিপি। আইজিপি জেলা পুলিশ সুপারগণকে খুনের মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য দ্রুত ধ্বংস করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, দস্যুতা ইত্যাদি মামলা বিশেষ গুরুত্বসহকারে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, মামলার তথ্য ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিডিএমএস) অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। সিডিএমএস-এ মামলার নথি হালনাগাদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তাগিদ দেয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল, সভায় পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জহিরুল ইসমাল ভূঁইয়া গত প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ/১৬) সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। দেশব্যাপী অপহরণ, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু পাচার, অস্ত্র উদ্ধার, মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সভায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত প্রান্তিকের তুলনায় ভাল। আলোচ্য প্রান্তিকে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় সারাদেশে মামলার সংখ্যা কমেছে। ২০১৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে মোট মামলা হয়েছে ৪৪ হাজার ২১৫টি। আলোচ্য প্রান্তিকে অর্থ্যাৎ জানুয়ারি-মার্চ/২০১৬ সময়ে মামলার সংখ্যা করে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ২৬৯টি । সারাদেশে আলোচ্য সময়ে খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন ইত্যাদি মামলার পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ, সিঁধেল চুরি, চুরি মামলার সংখ্যা বেড়েছে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালান দ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। আলোচিত সময়ে পুলিশ কর্তৃক বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণও বেড়েছে। আলোচ্য কোয়ার্টারে মোটর কার, মাইক্রোবাস, জিপ, মোটর সাইকেল, বেবি ট্যাক্সিসহ বিভিন্ন ধরণের ৫৬২টি গাড়ি চুরির মামলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ২০১৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ কোয়ার্টারে গাড়ি চুরির মামলা হয়েছে ৬২৩টি। আলোচ্য কোয়ার্টারে ৫৬২টি চুরি যাওয়া গাড়ির মধ্যে ৪৪৬টি গাড়ি উদ্ধার হয়েছে, গাড়ি উদ্ধারের হার শতকরা প্রায় ৮০ শতাংশ।ব্লগার হত্যা সভায় ব্লগার হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, ১১টি ব্লগার হত্যা মামলার মধ্যে একটি মামলার বিচার হয়েছে। তিনটি মামলা বিচারধীন এবং সাতটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যগণ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। জননিরাপত্তা বিধানকালে পুলিশ হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে মোট ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় পুলিশ টেলিকম এন্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট এর অতিরিক্ত আইজিপি অমূল্য ভূষন বড়ুয়া, এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ’র রেক্টর ফাতেমা বেগম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) মো. মোখলেসুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নজিবুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এপিবিএন’র অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (ফিন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট) মোঃ আবুল কাশেম প্রমুখ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।