বেকায়দায় দলীয় প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের সাথে দলীয় নেতাকর্মীরা, মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৬ টিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা বেকায়দা পড়েছেন দু’দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাই দলীয় প্রার্থীর সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায় জগদল ও ভাটিপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আব্দুস সালাম ও শাহজাহান কাজীর নাম কেন্দ্রে জমা দেন কিন্তুু কেন্দ্র থেকে ওই দুই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পান হুমায়ুন রশীদ লাভলু ও জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কে পাশ কাটিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ওই ইউনিয়নে তার পছন্দের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন ভাগিয়ে আনেন। কেন্দ্রের এই সিন্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অংগসংঘটনের নেতৃবৃন্দ। মনোনয়নপত্র জমা দানের দিন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী শিবলী আহমদ বেগ ও শাহজাহান কাজী পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার শিবলী আহমদ বেগ’র পক্ষে দিরাই পৌরসভার মেয়র, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়া ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান, জিল্লুর রহমান সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অংগসংঘটনের নেতৃবৃন্দ শিবলী বেগ’র পক্ষে বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ পথসভা করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান বলেন দিরাই শাল্লা হচ্ছে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘাটিঁ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কে পাশ কাটিয়ে দিরাই শাল্লার রাজনীতি কল্পনা করাই যায় না। আমরা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। কেউ উড়ে এসে আমাদের নেতার উপর মাতব্বরী করে মনোনয়ন বাণিজ্য করবেন সেটা দিরাই শাল্লার আওয়ামী লীগ মেনে নিবে না। অপর দিকে কুলঞ্জ ইউনিয়ন ও সরমঙ্গল ইউনিয়নের বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।কুলঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউর রহমান বলেন ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রবাসী এমন একব্যাক্তি কে ধানেরশীষ দেওয়া হয়েছে যার সাথে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বেশী সখ্যতা। তাই আমরা ওই আওয়ামী লীগ ঘেষা প্রবাসী ব্যাক্তি কে মেনে নিতে পারিনি। আমরা বিএনপি পরিবারের লোক সাবেক ছাত্রনেতা মিসবাউজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছি। সরমঙ্গল ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন আমাদের ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সহ অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতির হাতের ধানেরশীষ তুলে দেওয়ায় আমরা মেনে নিতে পারছি না, আমরা বর্তমান চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বিএনপির একাধিক দ্বায়িত্বশীল নেতারা ক্ষোভের সাথে বলেন দু’দলেই ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্য ও জন বিছিন্ন লোকজনদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যার কারণে দু’দলেই বিশৃঙ্খল দেখা দিয়েছে এবং দু’দলের নেতাকর্মীরাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। রফিনগর ও তাড়ল ইউনিয়নে দু’দলের একই অবস্থা।