ক্ষুদে বিজ্ঞানীর সাফল্য জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০১৬

ডেস্ক নিউজঃ
কোনো প্রকার জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কৌশল আবিষ্কারের দাবি করেছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার স্কুলছাত্র মোঃ মাহবুর রহমান।দুর্গম লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।সে লংগদু উপজেলার দক্ষিণ ইয়ারংছড়ি গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেনের ছেলে সে।পাওয়ার বক্স ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী জানায়, তার তৈরি করা‘পাওয়ার বক্স’ দিয়ে কোনো প্রকার জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাল্ব, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ, জমিতে সেচকার্য, স্কুল-কলেজ ও অফিসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য প্রজেক্টর, ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন কারখানায় জেনারেটরের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব, তার তৈরি করা এই পাওয়ার বক্সের মাধ্যমে লোডশেডিংয়ের কবল থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই পাওয়ার বক্সের আধুনিকায়ন করে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখা সম্ভব। এজন্য দরকার সরকারি সহায়তা,’ যোগ করে সে। সে জানায়, অনেক প্রচেষ্টা ও গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে এই পাওয়ার বক্স আবিষ্কার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় আকারের জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী বলে,এ প্রজেক্ট কিছুটা ব্যয়বহুল। প্রজেক্টটি সফল করতে আর্থিক সচ্ছলতা দরকার। পারিবারিক আর্থিক সমস্যা থাকার কারণে গবেষণার কাজ ও যন্ত্রপাতি সরঞ্জামাদি কিনতে সমস্যা হচ্ছে। আর্থিক সহযোগিতা পেলে প্রজেক্টটি সফল হবে। আমরা অভিভূত এ বিষয়ে রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল কবির বলেন তাদের স্কুলের ছাত্র মাহবুর রহমান বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণাকাজ নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকত। তার গবেষণার মাধ্যমে পাওয়ার বক্স নামে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ফর্মুলা আবিষ্কার করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার এ আবিষ্কারে আমরা সকলেই অভিভূত। তিনি বলেন ‘সরকারি সহায়তা পেলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।’এ সৃষ্টিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা চলছে’এ বিষয়ে লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন কিশোর বিজ্ঞানী মাহবুর রহমানের আবিষ্কারের কথা শুনেছি। সে আমাদের এলাকার গর্ব। তার এ সৃষ্টিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানীর সাফল্য প্রসঙ্গে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন তার আবিষ্কারের কথা শুনে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তার এই প্রজেক্টকে সফল করতে কীভাবে সহায়তা করা যায় সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিন্তাভাবনা চলছে। কিশোর বিজ্ঞানী মাহবুর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অংশগ্রহণ করে এর আগে বেশ কয়েকবার পুরস্কার অর্জন করেছে। তার উদ্ভাবিত ‘পাওয়ার বক্স’প্রজেক্টের সফল বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তা কামনা করেছে এলাকাবাসী।