সিলেটের বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ‌’কঠিন রোগে’ আক্রান্ত!

প্রকাশিত: ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৬

ডেস্ক নিউজঃ
বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নামেই সরকারি হাসপাতাল। উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল এ হাসপাতালটি যেন নিজেই কঠিন রোগে আক্রান্ত। ৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ২-৩ জন ডাক্তার আর ৯ নার্সের স্থলে মাত্র ৩ জন থাকায় রোগী ও দর্শনার্থীদের সাথে কর্তব্যরতদের নিত্যনৈমিত্তির দেন-দরবার ও নানা অপ্রীতিকর উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। একজন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে দেড় বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। প্রায় দুই বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকাকালিন মৃত ঘোষিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ কাংখিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত থাকলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন মহলের।
জানা গেছে, বড়লেখার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা এলাকার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার কেন্দ্রস্থল ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পেটার্ণ অনুয়ায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ৪ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে একজন মেডিকেল অফিসারকে ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও করায় প্রশাসনিক নানা কাজে তিনি বাহিরে থাকায় মুলত ৩ ডাক্তার দিয়েই চালানো হচ্ছে। এতে জনসাধারন কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ই,ওসি, এমএনএইচআই, ও ডিএসএফ প্রজেক্টভুক্ত হওয়ায় গরীব ও দুস্থ গর্ভবতী মহিলাদের প্রসব কালিন জটিলতার রোগির হার অত্যন্ত বেশি। জোড়াতালি দিয়ে সব বিভাগ চালিয়ে নেয়া হলেও প্রায় দেড়বছর ধরে একজন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে প্রসবকালিন জটিল রোগিরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েন, অন্যদিকে ব্যবহার না হওয়ায় লাখ লাখ টাকার সরকারী যন্ত্রপাতি বিকল হয়। এদিকে রোগী পরিবহনের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সেটি মৃত ঘোষনা করা হয়। গত বছরের ৭ জুলাই রোগী নিয়ে সিলেট যাওয়ার পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হলে ট্রাকে করে সেটি গ্যারেজ করা হয়। সম্প্রতি মোটরযান পরিদর্শক সেটি কনডেমমেনশনের সুপারিশ করেন। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও ডাঃ আহমদ হোসেন চিকিৎসক ও নার্স সংকটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, সব বিভাগ চালানো গেলেও একজন জুনিয়র কনসালটেন্টের (অ্যানেসথেয়িা) অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। প্রায় দেড়বছর আগে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্ধ ও একজন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক পদায়নের জন্য জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করেছেন।