দিরাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ”৮টি ইউনিয়নে মাঠে বিদ্রোহীরা বেকায়দায় দলীয় প্রার্থীরা”

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন ২৮ মে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সরব রয়েছে এতে বেকায়দা পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল মিটিং ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১নং রফিনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ রেজুয়ান খানের প্রতিপক্ষ হয়েছেন ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা, প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আল মামুন ও আওয়ামী লীগ নেতা মহসিন রেজা। বিএনপির একক প্রার্থী আনিসুর রহমান অনেকটা সুবিধায় আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। ২ নং ভাটিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান অনুসারী, বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম এর প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনুসারী শাহজাহান কাজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান কাজীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপির একক প্রার্থী আফজল হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান কাজীর মধ্যে ভোটের যুদ্ধ হবে বলে এমনটাই ধারনা করছেন ভোটারা। ৩নং রাজানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৌম্য চৌধুরীর ভোটে ভাগ বসাবেন সিলেট মহানগর যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জুয়েল। বিএনপি প্রার্থী জুনায়েদ মিয়ার ভোটে ভাগ বসাবেন বিএনপি নেতা নওশেরান চৌধুরী। ৫ নং সরমঙ্গল ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েলের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী কানু লাল দাস ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এহসান চৌধুরীর মধ্যে আসল ভোটের লড়াই হবে এমন ধারণা সাধারণ ভোটারদের। ৬নং করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আছাব উদ্দিন সরদারের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার, বিএনপির একক প্রার্থী হচ্ছেন আব্দুর রহিম। ৭ নং জগদল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জেলা সভাপতি মতিউর রহমান অনুসারী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন রশীদ লাভলু’র প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনুসারী শিবলী আহমদ বেগ। বিএনপির একক প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম অনেকটা সুবিধায় আছেন। ৮ নং তাড়ল ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আলী আহমদের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদার। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহমদ চৌধুরীর প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা ওরফে পুলিশ। ৯ নং কুলঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী প্রবাসী মুজিবুর রহমানের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রবাসী মিসবাউজ্জামান চৌধুরী। অপর দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিলন মিয়ার প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী একরার হোসেন ও পবিত্র দাস। ৮ টি ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে আলাপ করলে তারা জানান অধিকাংশ ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে দলীয় প্রার্থীদের ভোট যুদ্ধ হবে।