ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিলো ২৪ জনের প্রাণ

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০১৬

ডেস্ক নিউজঃ
ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে ঘর, পাহাড় ধস, গাছ ভেঙে ও দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে এ পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ও দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে তিনজন, ভোলায় ঝড়ে গাছ ও ঘর চাপা পড়ে তিন জন, কক্সবাজারে দেয়ালচাপা ও নৌকার ধাক্কায় দুজন, লক্ষ্মীপুরে গাছ চাপায় একজন, নোয়াখালীতে মা-মেয়ে এবং পটুয়াখালীতে ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়ে আরো একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জলোচ্ছ্বাসে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম: ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে জেলার বাঁশখালী উপজেলায় দুই শিশুসহ সাতজন ভেসে যায়।
তারা হলেন- খানাবাদ ইউনিয়নের আবু সিদ্দিক (৫৫), বুলবুল আকতার (৫৭), জালাল আহমদ (৩৮) ও হোসেন আহমদ (৭)। এ ছাড়া চরোয়া ইউনিয়নে মারা গেছে তিন বছরের শিশু তাহেরা বেগম। অন্য দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জানান, বিকেলে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে সাতজন ভেসে যায়। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরের দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে ঘর চাপা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- জঙ্গল ছলিমপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী কাজল বেগম (৫০) ও তার ছেলে বেলাল হোসেন (১২)। অপরদিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকায় দুপুর ১ টার দিকে ঝোড়ো বাতাসে ইটের আঘাতে রাকিব নামের ১১ বছর বয়সী এক পথশিশু মারা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার রাতে প্রবল বৃষ্টি হয়। এরপর শনিবার সকালে পাহাড় ধসে পড়লে রফিকুল ইসলামের ঘর মাটি চাপা পড়ে। এতে তার স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যু হয়। কক্সবাজার: কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে কক্সবাজারে কুতুবদিয়া উপজেলায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও ১০ জন। নিহতরা হলেন, উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. ইকবাল (২৫), উত্তর কৈয়ার বিল এলাকার ফয়েজুর রহমানের ছেলে ফজলুল হক (৫৫)। পানিতে ডুবে মারা গেছেন মো. ইকবাল (২৫)। লক্ষ্মীপুর: ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর তেওয়ারীগঞ্জ এলাকায় গাছ পড়ে আনার উল্যাহ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তর তেওয়ারীগঞ্জ এলাকার মৃত বসির উল্যার ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, আনার উল্যাহ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তেওয়ারীগঞ্জ বাজারে উদ্দেশ্য রওনা হন। এসময় বাজারের পাশে আসলে গাছের চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় আনার উল্যাহ। তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী ঘূর্ণিঝড়ে একজন মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় শনিবার বিকেলে দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- মিনারা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে মরিয়ম নেছা (১০)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মইন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাঁশখালী: চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু উপকূল অতিক্রম করার সময় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে পাঁচ জন এবং ছনুয়া ইউনিয়নে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। ভোলা: প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছ ভেঙে ও ঘর ধসে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশিগঞ্জ গ্রামের নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৫) ও একই এলাকার মো. মফিজের ছেলে আকরাম (১৪)। শুক্রবার শেষরাতের দিকে ভোলায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। ভোর ৪টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে ঘর চাপা পড়ে আকরাম আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টায় সে মারা যান। এছাড়া ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়লে চাপা পড়ে মারা যান রেখা বেগম। অপরদিকে দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেনু বিবি ঘরচাপায় মারা যান। পটুয়াখালী: প্রবল ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে শনিবার সকালে ঘর ভেঙে পড়লে পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ঘর ভেঙে পড়লে চাপা পড়ে নয়া বিবি (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।