দুই সম্পাদক আটক : দুই সাংসদ ‌ ও ‌’এজেন্ট’দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
করোনাকালে সিলেট অঞ্চলের দুজন সংসদ সদস্যের মানহানির ঘটনায় দুজন সম্পাদককে কারাগারে প্রেরণের ঘটনা বেশ একটা চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বাক স্বাধীনতার চেয়ে এই মুহুর্তের জ্বলন্ত প্রশ্ন হলো, জেলে করোনায় দুই সাংবাদিকের জীবনের নিরাপত্তা কী। রেডজোন হিসেবেই বৃহত্তর সিলেটে লকডাউন চলছে। কারাগারগুলো কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুকির বাইরে তা কেউ বলবেন না। সেকারণে সরকার যথাসম্ভব কারাগারগুলো থেকে কয়েদি সংখ্যা কমানোর দিকটিও বিবেচনায় রাখছেন। অন্যদিকে এই দুটি গ্রেপ্তার কতগুলো নতুন প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। আইনি বৈধতা, স্বার্থের সংঘাত এবং নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে ‘গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে স্থানীয় দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা’র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন তালুকদারকে ৫ মে আদালতে তোলে পুলিশ। এরপর জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ খালেদ মিয়ার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বলাকা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধর্মপাশা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন স্থানীয় একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেনুয়ার হোসেন খান পাঠান। অপরদিকে, হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে স্থানীয় দৈনিক ‘আমার হবিগঞ্জ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাশগুপ্তকে ২১ মে আদালতে তোলে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে হবিগঞ্জ সদরের চিরাকান্দি থেকে সুশান্ত দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির বাদী হয়ে পত্রিকার সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

প্রথমত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, দুই সাংসদের ব্যক্তিগত মানহানি ঘটেছে। তাদের যে মান খোয়া গেছে, সেটা তারা নিজেরা বুঝতে পারেননি। বুঝতে পেরেছেন ভিন্ন ব্যক্তি। যারা পারিবারিকভাবে রক্তসূত্রে সম্পর্কিতও কেউ নন। দুজন বাদীর সঙ্গেই অভিযুক্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পূর্ব বৈরিতা থাকতে পারে। এই বৈরিতা বা স্বার্থের সংঘাত দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান হতে পারে।
মানহানি বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারের একটি বহুল ব্যবহৃত বিষয়। সিআরপিসির ৫০০ ধারায় মানহানির প্রচুর মামলা হতো। ওইসব মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সামনে বহুবার প্রশ্ন এসেছে, মান যাবে একজনের, প্রতিকার চাইতে আসবেন কি আরেকজন? সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হবেন কে?
সুপ্রিমকোর্ট বহু মামলার রায়ে এর চূড়ান্ত মীমাংসা দিয়েছেন। বলেছেন, মানহানি যার যাবে, তাকেই মামলা করতে হবে। মান একজনের, সেটার হানি ঘটলো কিনা, সেটা তিনি বুঝবেন না। বুঝবেন আরেকজন, সেটা হতে পারে না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে পারেন। সেই ক্ষতিপূরণের টাকা আরেকজন মামলা করে আদায় করে দিতে পারেন না।
গত ৭ মে ডেইলি স্টার এক রিপোর্টে জানায়, বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের কন্ঠরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিডিয়াকর্মীরা ভীতির মধ্যে আছেন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরিষ্কার ইঙ্গিত দেন যে, কথিত মানহানির ঘটনায় প্রভাবশালীরা ‘এজেন্ট’ নিয়োগ করেন। এই এজেন্টরা তাদের পক্ষে মামলা করেন। সিলেটের ওই দুই সাংবাদিক ঠিক এজেন্টের খপ্পরে পড়েছেন।

এই ঘটনায় দ্বিতীয় যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটা হলো, একজন সংসদ সদস্য দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য এবং একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্যপদে একত্রে বহাল থাকতে পারেন কিনা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের দাবিতে দুই প্রধান দল সমর্থিত সাংবাদিকদের উভয় গ্রুপ ঐক্যমতে পৌছেছে। অথচ আইন মন্ত্রী সাফ বলেছেন, এটা সংশোধনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সেকারণে দুই সাংসদ কোনোভাবেই ডিজিটাল আইন সংশোধনের দাবি তুলবেন না। অথচ পেশাদার সম্পাদক বা সাংবাদিক মাত্রই এ ধরণের কালাকানুন বাতিলের পক্ষে থাকবেন। দেশের দলনিরপেক্ষ প্রতিটি প্রেসক্লাবের উচিত হবে মানহানির যে কোনো ঘটনাকে ডিক্রিমিনালাইজ করার দাবিতে সোচ্চার হওয়া। এর অর্থ হলো, কোনো ভুল তথ্য এবং মানহানি দুটি এক জিনিস নয়। তবে মিডিয়া বা সামাজিক মিডিয়ায় যাই ঘটুক, কখনও ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে না। এটা হবে সিভিল রং। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পুলিশ দিয়ে ধরাবেন না, তিনি দেওয়ানি প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করবেন। আদালত সন্তুষ্ট হলে যথাপ্রতিকার দেবেন।

তৃতীয়ত, কথায় আছে কাক কাকের মাংস খায় না। কিন্তু কলিকালে খায়। এরপর চলছে করোনাকাল। এখন তো আরো বেশি খায়। বিচিত্র উপায়ে খায়। তার প্রমাণ হবিগঞ্জের প্রেসক্লাবের কথিত রেজুলেশন। প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠান হিসেবে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত মানহানির দায়ে মামলা দায়ের করতে পারে কিনা, সেটা বিরাট জিজ্ঞাসা।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদক্ষেপ বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচারণবিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা, সেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মতো এপেক্স সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপও কামনা করা যেতে পারে। কারণ এই ধরণের বিষয় শুরুতেই ফয়সালা করে না দিলে এটা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বহুস্থানে সাংবাদিকদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা বাটোয়ারার মাধ্যমে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক মহল প্রেসক্লাব বিভক্ত করেছেন। এখন প্রতিপক্ষ দমনে প্রেসক্লাব ব্যবহারের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে।
ফ্ল্যাশ ব্যাক :
সিলেট অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমার হবিগঞ্জ এবং দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশককে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় একটি বিশেষ বিধানের কথা মনে পড়ল। বঙ্গবন্ধু সম্পাদকদের বিশেষভাবে সুনজরে দেখতেন।সেকারণে নতুন রাষ্ট্রে নতুন বিধান তৈরি হয়েছিল, সম্পাদকদের গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশ চাইলেই তা পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির দরকার পড়বে। বলাবাহুল্য, সম্পাদকদের সমীহ করার সেই রাজনৈতিক নীতি অনেকেই ভুলে গেছেন। কিন্তু সেই বিধানটি এখনও বহাল আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ একদম নেই। এমনকি পুলিশ এর অস্তিত্ব সম্পর্কে একদম সচেতন নন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করা হয়েছিল সাইবার অপরাধ দমনের জন্য। হোলি আর্টিজান বেকারির সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরে সবাই স্বীকার করলেন, জঙ্গিরা ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার করতে পারে। সেকারণে ঐক্যমত তৈরি হল যে, নতুন একটা লাগসই আইন লাগবে। ততোদিনে বিএনপি আমলে পাস করা ২০০৬ সালের বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠল। আওয়ামীলীগ স্বীকার করল, ডিজিটাল মানহানির নামে বিএনপি যা পাস করেছিল, তার টার্গেট ছিল বিরোধী দল দমন। তাই এই ধারাগুলো বাদ দিতে হবে। কিন্তু যখন ২০১৮ সালে নতুন আইন এল, তখন দেখা গেল, সেই কালাকানুনগুলো রহিত করা হল না। সেই থেকে নানাভাবে এর অপব্যবহার চলছে।
ক্যাসিনোর পরে
সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার সংবাদের শিরোনাম হলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যাসিনো কাণ্ডের পরে দুদকে তলবের পরে। এবারে অতিমারীর মধ্যে সাংবাদিক কারাগারে পাঠানোর ঘটনায়।

ভুল বনাম গুজব, মানহানি

প্রেস কাউন্সিল বঙ্গবন্ধু সরকারের সৃষ্টি। ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইনটি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য প্রযোজ্য। সুশান্ত দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মানহানিকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। আচরণবিধি বলছে, প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার বক্তব্য দেবেন। প্রতিবাদ করবেন। সম্পাদক সেটা তার বক্তব্যসহ (যদি থাকে) যথা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করবেন। কিন্তু হবিগঞ্জের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংসদ সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ প্রদানের আগে কোনো প্রতিবাদ করেছিলেন কিনা, তা জানা যায় না।
অন্যদিকে এমপি রতন আটক। এরকম একটি স্ট্যাটাস ফেসবুকে কথিতমতে পোস্ট করার চার ঘন্টার মধ্যে একজন সম্পাদকের গ্রেপ্তার হওয়া একটি মারাত্মক ঘটনা। কারণ মূল বৈধতার প্রশ্ন হলো সুনামগঞ্জের পুলিশ কি করে নিশ্চিত হলো যে, ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি ভুয়া নয়। কি যাদু তারা জানে? গ্রেপ্তার হওয়া সম্পাদক যখন দাবি করেছেন যে, তারা ফেসবুক হ্যাকড হয়েছিল। তার দাবি সঠিক না হতে পারে। কিন্তু পুলিশ কি করে বুঝল। হতে পারে তিনি ভুল তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এ ধরণের প্রতিটি ভুল যদি গ্রেপ্তারের জন্ম দেয়, তাহলে কারাগারে তো তিল ধারণের জায়গা থাকবে না।
অবশ্য পুলিশ ভালো জানবে, কাকে কারাগারে পাঠাবে, কাকে নয়? মাহতাব উদ্দিন তালুকদার যুব শ্রমিক লীগের জেলা সভাপতির দায়িত্বে আছেন। কিন্তু সেটা তার জন্য ‘পিপিই’ হিসেবে কাজ করেনি। তিনি আক্রান্ত হয়েছেন।

ফেবু মিডিয়া নয়

সম্পাদক মাহতাবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের ২৫, ২৯,৩১ ও ৩৫ ধারায় মামলা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল আইনে ফেসবুক কথাটি নেই। যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কোনো সংবাদপত্র নয়। বা কোনো মিডিয়া নয়। বাংলাদেশের কোনো প্রেসক্লাবে ফেসবুক আইডির ভিত্তিতে সদস্যপদ দেওয়া হয় না। ফেবু আইডি থাকার জোরে বাংলাদেশের কোনো ডিসি কাউকে সম্পাদক বানাতে পারেন না। আচরণবিধিতে বলা আছে, ‘প্রকাশিত সংবাদ যদি ক্ষতিকর হয় বা বস্তুনিষ্ঠ না হয় তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার, সংশোধন বা ব্যাখ্যা করা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষমা প্রার্থনা করার’ সুযোগ থাকবে। ১৯৭৩ সালের এই আইনটি ফেবুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ধরে নিতে হবে। কিন্তু চার ঘন্টার মধ্যে তাকে কেউ এই সুযোগ দেয়নি। বরং এজেন্টরা দ্রুত মামলা ঠুকে দিয়েছেন। আর সেকারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এজেন্ট দিয়ে মামলা করানোর এই প্রবণতা কি চলতেই থাকবে?
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ ডিজিটাল আইনের ২৫ ও ৩১ ধারার সাংবিধানিকতা প্রশ্নে একটি রুল জারি করেছেন। কিন্তু সরকার এখনও পর্যন্ত ওই রুলের জবাব দেয়নি বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সেদিক থেকেও ওই দুটি ধারার আওতায় পুলিশি গ্রেপ্তার প্রশ্নবিদ্ধ।

এজেন্টরা কি করবেন?

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে নোটিশ পাঠিয়ে দুদকে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে তলব করা হয়েছিল। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পটভূমিতে রতনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। গত ২৪ অক্টোবর দুদক থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বরাবর চিঠি পাঠিয়ে রতনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। ওই চিঠিতে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথাও বলা হয়। দুদকে তলবের পরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। বলেন, “একটি পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নিজেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি ৩০টি আওয়ামী লীগের অফিস করে দিয়েছি। আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই।”
কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে, ‌‌’ অবশেষে এমপি রতনকে আটক করেছে দুদক।’ দুদকের বরাতে এরকম একটি ভুল খবরের জন্য এজেন্টরা মামলা করে যে সুফল পেলেন, সেটা কি তারা দুদকের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে খাটাতে পারবেন? যদি সত্যিই ‌‌” একটি পক্ষ” তাকে হয়রানি করে থাকে, তাহলে এজেন্টরা কি করতে পারেন? দুদকের ” হয়রানি” তো একটি ভুল ফেবু স্ট্যাটাসের চেয়ে বহুগুণে গুরুতর।

জাতিসংঘ যখন

তাই সচেতন মহল মনে করেন, এজেন্ট দিয়ে মামলা এবং গ্রেপ্তার করানোর ঘটনায় জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তির সম্পৃক্ততার একটা প্রশ্ন আছে। কারণ দুই সাংসদ ডিজিটাল আইন প্রয়োগ করেছেন এমন এক সময়ে যখন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর তাদের দাবি অনুযায়ী, নির্যাতন এবং গুম হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সীমান্তে চোখ বাঁধা অবস্থায় সাংবাদিক কাজল উদ্ধারের ঘটনায় তারা গত ২৬ মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারা বলেন, তাঁকে আটকে রাখা এবং তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলো আশঙ্কা তৈরি করছে যে, বাংলাদেশ তার ডিজিটাল সুরক্ষা আইনটি বাক স্বাধীনতা রোধ করতে ব্যবহার করছে।