লন্ডনে বাড়িতে পড়েছিল করোনায় মারা যাওয়া বহু মানুষের পচা-গলা লাশ

প্রকাশিত: ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

তারিক চয়ন:
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ নিজ ঘরে থেকে একাই মারা গেছেন। দুই সপ্তাহ ধরে সেসব লাশ সেভাবেই পড়েছিল। তাদের বন্ধু, আত্মীয় বা প্রতিবেশীরা অ্যালার্ম বাজিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের পরই তাদের করুণ মৃত্যু সম্পর্কে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে জানতে এতোটাই দেরি হয়ে গেছে যে লাশ পচে গলতে শুরু করেছিল।

ঠিক কতো সংখ্যক মানুষ এভাবে নিজ গৃহে একা মারা গেছেন তা অবশ্য নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে লন্ডনে যে অনেক ডজন মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা বলা যায়।

রয়েল কলেজ অফ জিপি,স এর প্রধান অধ্যাপক মার্টিন মার্শাল বলেন, লকডাউনের কারণে একে-অন্যের বাড়িতে যাওয়া নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সাথে এই মৃত্যুগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে।

‘করোনা মহামারী থেকে একাকীত্বের মহামারী শুরু হয়েছে এবং তা শুধু বয়স্কদের জন্যই নয়’, তিনি যোগ করেন।

মার্শাল বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকরা এ ধরনের স্পর্শকাতর লোকদের দেখাশোনা করতে ভালো ভূমিকা রাখছে। কমিউনিটিতে মৃত্যুর হার বেড়েছে। অনেকে করোনা ছাড়াও অন্যান্য রোগে মারা যাচ্ছেন। যেমনঃ হৃদরোগ।
সুতরাং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মানুষ যদি অন্যান্য রোগের জন্যেও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ না করে সেটা হবে ভয়াবহ।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য। সরকারের জরুরি বিভাগের একজন উপদেষ্টা বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্য আরো আগে থেকে লকডাউনে গেলে ভালো হত। আমরা একটু নরম হলেই এই মহামারী আরো দ্রুত গতিতে ফিরে আসবে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যাংকক তা অস্বীকার করে বলেন, সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছিল।