ইন্টারনেটে আয় করবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাব। আর মরণব্যাধী এই ভাইরাসের কারণে প্রথাগত অফিস ও কাজের ধারণায় এসেছে অনেক পরিবর্তন। অনেকেই মনে করছেন এতে করে ইন্টারনেট জগতে কাজের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোতে দাপ্তরিক কাজের বেশ বড় একটি অংশ চলে আসবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। তাই চলুন জেনে নেই ইন্টারনেট জগতের আয় সম্পর্কে। জেনে নেই কিভাবে, আপনার কোন কোন দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন সেসব বিষয়ে।

ওয়েব ডিজাইন

এখনকার অনলাইনের কাজের ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক। কোনো প্রজেক্টে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজে আয় করা যায়। সব ব্যবসায়ী প্রযুক্তিপ্রেমী নন। নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরিতে তাঁদের ওয়েব ডিজাইনারের দরকার পড়ে। যাঁরা ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান নিজেদের ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকেই ছোট ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরিতে এখন কোডিং আর ওয়েব ডিজাইন দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কনটেন্ট রাইটিং

যাঁরা লেখালেখিতে ভালো তাদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয় বা নিশ ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়।

অনলাইন টিউটর

অনলাইন টিউটরদের এখন চাহিদা বাড়ছে। সব বয়সী শিক্ষার্থীদের আপনি শিক্ষা দিতে পারবেন। এখানে অন্য দেশের শিক্ষার্থীদেরও পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনলাইন টিউশনির সুযোগ রয়েছে। সেখানে সুবিধামতো সময়ে পড়াতে পারেন ছাত্র। এসব সাইটে নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়।

ওয়েবসাইট তৈরি

নিজের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অনলাইনেই অনেক উপাদান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডোমেইন নির্বাচন, টেমপ্লেট ও ওয়েবসাইট তৈরির নকশা প্রভৃতি। ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সেবা দেওয়া শেষ হলে গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। গুগলের বিজ্ঞাপন যখন সাইটে দেখানো শুরু হবে এবং তাতে ক্লিক পড়বে। তখন আয় আসতে শুরু করবে। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা দর্শক যত বেশি হবে, আয়ের পরিমাণ তত বাড়বে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এই পদ্ধতিতে আয়ের ক্ষেত্রেও নিজের ওয়েবপেজ বা ব্লগ প্রয়োজন। ওয়েবসাইট চালু হলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য বিভিন্ন লিংক যুক্ত করা যাবে। সাইট থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা কোনো দর্শক কিনবেন। তখনই আপনার আয় আসতে শুরু করবে।

গ্রাফিকস ডিজাইন

অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন বেশ ভালো একটা উপায়। যাঁরা এই কাজে দক্ষরা বিভিন্ন ডিজাইন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দিয়ে রাখেন। সেখান থেকে তাদের আয় আসে। তাঁদের তৈরি একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়। একটি ভালো নকশা থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয় হতে থাকে। এ ধরনের ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়।

ভার্চ্যুয়াল সহকারী

এখন ভার্চ্যুয়াল সহকারীদের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। ঘণ্টাপ্রতি আয়ও বেশি। বাড়ি থেকে করপোরেট অফিসের নানা কাজ অনলাইনে করে দেওয়ার সুবিধা আছে এখন। ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মী বা নিজের ব্যবসা নিজেই চালানো যায়। বিভিন্ন দক্ষতার ভিত্তিতে ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ফোন কল, ই-মেইল যোগাযোগ, ইন্টারনাল রিসার্চ, ডেটা এন্ট্রি, এডিটিং, রাইটিং, ব্লগ, গ্রাফিকস, টেক সাপোর্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনার মতো কাজ থাকে।

এসব ছাড়াও ইউটিউবিংসহ ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিতে পারেন ইন্টারনেটের বিশাল জগৎ থেকে। সেইসাথে যারা ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা উপার্জন করছেন তাদের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারেন। কিংবা কোন কিছু বুঝতে জিজ্ঞাসা করতে পারেন