জামালগঞ্জে পতিত জমিতে লতিরাজ কচু চাষে সাফল্য

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়নের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকেরা বারী পানি কচু (লতিরাজ) প্রদর্শনীর মাধ্যমে এবারই প্রথম চাষ করে সফল হয়েছেন। ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি ও ভালো বাজার মূল্য পাওয়ায় বিস্তীর্ণ পতিত জমিতে প্রথম কচু চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কচু চাষীরা তাদের জমিতে কচু চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয়ভাবে লতিরাজ কচু হিসেবে পরিচিত এই কচু অনেকের কাছেই প্রিয় এবং সুস্বাদু খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। প্রথম চাষ করেই উপজেলার কৃষকরা বাম্পার ফলনে লাভবান হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। উপযুক্ত ভূমি ও অনুকূল আবহাওয়া এবং উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ ও সার-বীজের সহযোগিতায় প্রথম কচু চাষ করেছেন এই উপজেলার কৃষকরা। লাভজনক শস্য ও চাষাবাদে স্বল্প ব্যয় হওয়ায় এখানকার অনেকেই আগামীতে কচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সব কৃষকেই লতিরাজ জাতের কচু চাষ করেছেন। এই কচু পানিমগ্ন এলাকায় জন্মে।
কৃষক সূত্রে জানা যায়, লতিরাজ কচু পরিবেশবান্ধব। বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার। কৃষি বিভাগ কৃষকদের উচ্চ ফলন জাতের কচু চাষের জন্য উপজেলার ৭টি জায়গায় এবারই প্রথম কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার, বীজ ও প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
আর জানা যায়, লতিরাজ কচুর কান্ড অপেক্ষা লতির প্রাধান্য বেশি। এই কচু ১৮০ দিন থেকে ২৭০ দিন পর্যন্ত থাকে। লাগানোর দুই মাস পর থেকেই ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। এই কচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের পরিমাণ কম থাকায় গলা চুলকায় না। প্রতি ১০ দিন পর পর প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম লতি সংগ্রহ করা যায়। এই কচু চাষে খরচ, পরিচর্যা ও ঝুঁকি অন্য ফসলের তুলনায় অনেক কম। কচু চাষে ধান কিংবা অন্য ফসলের চেয়ে ৫ গুণ লাভ বেশি।
ভীমখালী ইউনিয়নের চেলাইয়া গ্রামের কৃষক সারোয়ার হোসেন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের শাহ আলম, সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের আলমগীর আফিন্দী, শিব্বির আহমদ, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের জলিলপুর গ্রামের কাসেম আলী, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়া লামাপাড়া গ্রামের মো. নূর উদ্দিন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার ও শৈলেন দেবনাথ একদিন আমাদের গ্রামে আসেন। শৈলেন দার অন্য জমি আমি চাষ করি। সেই সুবাদে কৃষি অফিসার শৈলেন দাকে বলেন আপনার পতিত জমিতে কচু চাষ করেন। তাঁর কথায় শৈলেন দা তার জমিতে বর্গা চাষী হিসেবে আমাকে চাষ করতে বলেন। তারপর প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০ শতক জায়গায় কৃষি অফিস থেকে প্রাপ্ত ৩ হাজার ২৪৫টি কচু গাছ রোপণ করি। এতে আমার প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি ৪ বস্তা জিংক সার, বীজ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি অফিস আমাকে সহায়তা করেছেন। আমি এই জমি থেকে এ পর্যন্ত ৬০ কেজি লতিরাজ কচু বিক্রি করেছি। ২৫ টাকা দরে যার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫শ’ টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় আমি খুশি। এই জমিতে আগে ধানের বীজতলা করা হতো। বাকি বছর পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত। এবার প্রথম চাষ করে লাভের মুখ দেখেছি। আগামীতে আরও বেশি করে চাষ করব। কৃষি অফিসের প্রণোদনায় মালিকের জমি চাষ করে ছয় মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। যা আমার জন্য অনেক কিছু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলায় কন্দাল ফসল চাষ করার মতো প্রচুর জমি আছে। এসব জমিতে পানিকচু, লতিরাজ কচু, মিষ্টি আলু, গোল আলু, গাছ আলু, মুকি কচুসহ কন্দাল জাতীয় সব্জি চাষ করে অনেক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এলাকার সব্জির চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।