সঙ্কটে যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন যারা

প্রকাশিত: ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
করোনার সঙ্গে লড়াই করছে বাংলাদেশ। এই লড়াইয়ে জনস্বাস্থ্য যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি অর্থনীতির ধকলও সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এই যুদ্ধে একাই লড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশ যে সুখবরগুলো পাচ্ছে বা যা কিছু ইতিবাচক সব কিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। তিনি দিনরাত ২৪ ঘন্টা একাকার করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছেন, কর্মপরিকল্পনা করছেন। শেখ হাসিনা নেতৃত্বে কিছু মানুষ সঙ্কট মোকাবেলায় যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন এবং শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তাঁদের উদ্যোগের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সীমাহীন ব্যর্থতার পরেও বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছে। বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন এবং যাদের কারণে এই দুঃসময়েও মানুষ আশার আলো দেখছে তাঁদের কয়েকজনকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ড. আহমেদ কায়কাউস

প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করোনা মোকাবেলার সব দিক দেখভাল করছে, নির্দেশনা দিচ্ছে। ড. আহমেদ কায়কাউস যেখানে স্থবিরতা, দূর্নীতি, অনিয়ম সেখানেই নজর দিচ্ছেন এবং কাজে গতি আনার জন্য পরিশ্রম করছেন। ড. আহমেদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বেশিদিন নয়। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পেরেছেন, যোগ্যতা প্রমাণ করে করোনা মোকাবেলায় একটি বিশ্বস্ততার নামে পরিণত হয়েছেন। অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন যে, তাঁকে যেকোন সময় ফোনে পাওয়া যায়। ফোনে করোনা সংক্রান্ত বা ত্রাণ সংক্রান্ত কোন সমস্যার কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধানের জন্য কাজ করেন এবং আন্তরিকতার পরিচয় দেন।

তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া

প্রধানমন্ত্রীর সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছেন গত জানুয়ারি মাসের পরে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। করোনা সঙ্কটে তিনি আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি টিম তৈরি হয়েছে যে টিমটি সারাদেশের করোনা সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দেখাশোনা করছেন। কোথাও যেন সমস্যা না হয়, সঙ্কট যেন দ্রুত সমাধান হয় সে ব্যাপারে তাঁরা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সচিব সারাদেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার বিষয়টিতে মূখ্য সচিবের সঙ্গে একসাথে কাজ করেছেন এবং সর্বত্র বিভিন্ন ধরণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

শেখ ইউসুফ হারুন

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনও করোনা মোকাবেলায় আলোচিত এবং আলোকিত নাম হিসেবে সামনে এসেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ২ হাজার চিকিৎসক এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছেন যে, আন্তরিকতা থাকলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন বাঁধাই বড় হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। এছাড়াও জনপ্রশাসন সচিব এই সংকটাপন্ন সময়ে প্রশাসনকে চলমান রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

হেলাল উদ্দিন

স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দিন-ও করোনা মোকাবেলার সময়ে আলোচিত হয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির সময় ত্রাণ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। করোনা সঙ্কটের সময় যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ত্রাণ চুরি করেছে সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আবদুল মান্নান

সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান মাত্র কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করে প্রতিকূল পরিবেশের মাঝে নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের ১ সপ্তাহের মধ্যে তাঁর স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাঁর দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত হন। এই পরিস্থিতির মাঝেও আবদুল মান্নান কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত কাজ করছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরেই দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে দূর্নীতির সিন্ডিকেট তা ভেঙে দেওয়ারও তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আবদুল মান্নানই শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে কোভিড চিকিৎসা চালু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে আগামীকাল তিনি ২৪ টি হাসপাতালে ১৪৫ জন টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন, এছাড়াও আরো ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা আছে। তবে এই সঙ্কটে প্রমাণ হয়েছে যে, যারা ন্যয়নীতি অনুসরণ করেন, পরিশ্রমী এবং যারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক মনে করেন সেই সমস্ত আমলারা সঙ্কটকালেও নিজেদের যোগ্যতা দিতে পারেন। এরকম আরো কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা আছেন যারা করোনা পরিস্থিতির মুখে চরম ঝুঁকি নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন এবং এই সঙ্কটে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হয়েছেন।