বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: দিরাইয়ে ত্রাণের জন্য হাহাকার

প্রকাশিত: ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার::
টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৩ বার বন্যা হওয়ায় হাওরের জনপদ দিরাই উপজেলায় দুর্যোগ নেমে এসেছে। করোনার এই সংকটময় মুহূর্তে বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

কর্ম না থাকায় টাকাও নেই, ঘরে খাবার নেই এমন এক কঠিন অবস্থায় পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যারা গ্রামের বাজার পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছেন শুধু তারাই কিছু ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছেন। প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন ত্রাণ পাচ্ছেন না। বন্যা আর করোনার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী পরিবারের মানুষ।

চারদিকে শুধু পানি আর পানি। হাওর বেষ্টিত গ্রামগুলোর বসত বাড়িকে হাওরের ঢেউ থেকে রক্ষায় করতে হচ্ছে যুদ্ধ। অপরদিকে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

টানা বর্ষণ ও ঢলের পানিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দিরাই উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ।

উপজেলার সুরিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, উপজেলা সদর থেকে দূরে থাকা লোকজন এখনও কোন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এমনকি শুকনো খাবারও পাননি, খেয়ে না খেয়ে অনেকের দিনপাত যাচ্ছে। টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায়, কেউ কেউ আবার নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পরিবারের সদস্য ও গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী পানি, শুকনো খাবার ও ত্রাণ পাচ্ছেন না তারা।

কালনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার কুলঞ্জ, জগদল, চরনারচর, তাড়ল, রফিনগর, ভাটিপাড়া, সরমঙ্গল, করিমপুর, রাজানগর ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম বন্যায় কবলিত হয়ে দূর্ভোগে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।

কুলঞ্জ ইউনিয়নের আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানিক মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে এলাকার অনেকেরই ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন, অনেকেই পানিবন্দি অবস্থায় নিজ ঘরে রয়েছেন। আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কোন চেয়ারম্যান, মেম্বারের পক্ষ থেকে বা সরকারি কোন সহায়তা আসেনি।

হাওর পাড়ের জয়পুর নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা অতুল ভৌমিক জানান, দুর্গম হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী এখনও পৌঁছায়নি। গো খাদ্যের খড় পানিতে ভিজে পচেঁ যাওয়ায় গরুর খাবার নিয়েও মহা বিপদে রয়েছি আমরা বানবাসী মানুষ।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর অধিকাংশ বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে আছে। বানবাসী লোকজন ঘরের ভেতরে চৌকিতে বসে গৃহবন্দি অবস্থায় কোন রকমে দিনপাত অতিক্রম করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইউনিয়নের একটি জায়গায় গুটিকয়েকজন কে ত্রাণ বিতরণ করেছেন যা ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ। বিতরণকৃত ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। পরপর ৩ বারের বন্যায় গ্রামের লোকজন কর্মহীন অবস্থায় ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন। সীমাহীন কষ্টে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ।

দিরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রায় ৫০ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে পানিবন্দি মানুষরা আশ্রয় নিয়েছেন, উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, শুকনো খাবার এখনো পৌঁছে নাই, শীগ্রই আসবে আসলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সফি উল্লাহ বলেন বন্যার শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলা প্রশাসনসহ আমি নিজেই সার্বক্ষণিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ খবর রাখছি ও ত্রাণ বিতরণ করছি।