১৮০০ মাদ্রাসা পাবে পাকা ভবন

প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
সাধারণ শিক্ষার সাথে মাদ্রাসা শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। স্কুলের মতো মানের শিক্ষাব্যবস্থা যাতে মাদ্রাসায়ও হয় তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে অধিদপ্তর। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৮০০ মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণের কাজ শীগ্রই শুরু হবে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর কাজ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় পাকা ভবন পাবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মাদ্রাসাগুলো। অবস্থা বুঝে একতলা, দুইতলা ও চারতলা ভবন নির্মাণ হবে।

শহর, জেলা-উপজেলার ভিত্তিতে ভবনের কাঠামো অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কায়সার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছি। আমাদের অফিসাররা সর্বদা মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সব ধরনের প্রতারণা মোকাবিলায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। তারপরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু ফাঁক-ফোকর থেকে যায়।’

‘বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক লোক আসায় কিছু সমস্যা হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। অনেক অঞ্চল থেকে অনেক ধরনের লোক আসায় প্রতারকরা সুযোগ পেয়ে যায়। অনেক লোক আসেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। যারা এসে সহজেই কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য দালালদের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু তারা বোঝেন না যে, এরা প্রতারণা করছে। এই কাজ এমনিতেই কিছুদিনে হয়ে যেত। অনেকে আবার আসেন কারো মাধ্যমে, আর যার মাধ্যমে আসেন তিনি হয়তো আগেই বলে দেন- অমুকের কাছে যান। এর ফলে তিনি আমাদের বোর্ডে আসার আগেই প্রতারণার শিকার হয়ে বসেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনাও নিয়েছি। ব্যাংকের যে বিষয়টি এটা আশা করি আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে হয়ে যাবে। আমরা সোনালী ব্যাংকের সাথে একটি চুক্তি করবো যার ফলে যাদের দরকার তারা দেশের যে কোনো প্রান্তে সোনালী ব্যাংকের যে কোনো শাখায় টাকা জমা দিতে পারবেন। ঢাকাতে এসে নির্দিষ্ট কোনো শাখায় জমা দিতে হবে না। টাকা জমার পর রশিদের নম্বর অনলাইন আবেদনে যুক্ত করে দিলেই হবে।’

পুরো প্রক্রিয়া কেমন হবে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যাটা হয় ‘নেম কারেকশনে’। এছাড়া বয়স পরিবর্তনে এসেও অনেক লোক ভোগান্তিতে পড়েন। তাই আমরা নাম এবং বয়স বিষয়ক যাবতীয় সমস্যা অনলাইনে সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করছি সেবা গৃহীতাদের যাতে বোর্ড পর্যন্ত না আসতে হয়। এরপর আমরা আরো চেষ্টা চালাচ্ছি সব ধরনের ডকুমেন্ট রিইস্যু করা, ডুপ্লিকেটসহ অন্যান্য বিষয় অনলাইনে করার। যাতে কারো আর স্বশরীরে বোর্ডে হাজির হতে না হয়।’

‘তবে, দু-তিনটা বিষয় থেকে যাবে যা আমরা চাইলেও কোনোভাবে অনলাইনে করতে পারবো না। অন্য যেগুলো সম্ভব আমরা দ্রুত তা অনলাইনে নিয়ে আসবো।’

অনেক সময় নাম পরিবর্তনে বেশি সময় লাগে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে কায়সার আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রতিমাসে দুটো মিটিং করে থাকি। যেখানে যারা নাম এবং বয়স পরিবর্তন করতে চান তাদের উপস্থিত থেকে কী কারণে করতে চাচ্ছেন তা জানাতে হয়। মূলত, নাম পরিবর্তনের দুটো ভাগ আছে। ১) নামের আক্ষরিক সংশোধন, ২) নামের বিস্তর ফারাক। নামের আক্ষরিক সংশোধনের জন্য অনেকে মিটিংয়ের জন্য অপেক্ষা করেন, যার ফলে অন্যদের কিছুটা দেরি হয়। আমরা গত কয়েকমাস আগে এ বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি, যে এটা যদি অনলাইনে করা যায় তাহলে অন্যদের কাজগুলো দ্রুত হয়ে যাবে।’

‘আমরা চাইলেই সপ্তাহে একটা করে সংশোধনের মিটিং করতে পারি না। কারণ যাচাই-বাছাইসহ আরো অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। আর এই কারণে আমরা ১৫ দিন পর পর মিটিং করি, যার ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক কিছু সময় বেশি লাগে।’

করোনাভাইরাসের কারণেও কিছু কাজ বিলম্ব হচ্ছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘যাদের বয়স সংশোধন করা দরকার তাদের আমরা সংশোধনীয় মিটিংয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হতে বলি। কিন্তু করোনার মহামারির মধ্যে আমরা চাইলেও এখন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তাদের উপস্থিত হতে বলতে পারি না। আমরা এটাও অনলাইনে করার কথা ভাবছি। আমরা মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে যদি কাগজপত্র এনে সম্ভব হয় তাহলে আমরা তাও করবো।’

অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারেন না। এ বিষয়ে কী ভাবছে বোর্ড- এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশের হার যাচাই-বাছাই করে দেখি। যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৫ জনের নিচে শিক্ষার্থী পাশ করে আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে ব্যাখ্যা চাই। আমরা তাদের শোকজ করি। সাধারণত তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেই। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান স্থগিত করি। পরে তারা পরবর্তী বছর ভালো ফল করতে পারলে আমরা আবার পাঠদানের অনুমতি দেই।