সুনামগঞ্জে আ.লীগের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ: আহত ৫০

প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পল্লীতে আ.লীগের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট নতুন বাজারের সড়ক পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

উভয়পক্ষের গুরুতর আহত ৩০জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি, স্থানীয় ইউপি সদস্য অমৃতপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আবুল খায়ের শফিকুল ইসলামকে গালিগালাজ করে বাড়িতে চলে যায়। এর প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে আবুল খায়ের বাড়ি থেকে বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আসার পথে শফিকুল ইসলামের লোকজন তাকে বেধড়ক মারপিট করে।

বিকালের দিকে শফিকুল ইসলামের পক্ষের সুহেল মিয়া বাজারে আসলে আবুল খায়েরের লোকজন তাকে মারধর করলে এর একপর্যায়ে বিকাল ৫টার দিকে ঘোষণা দিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে শফিকুল ইসলামের পক্ষে আহতরা হলেন, সেনাজুল (৩৫), হৃদয় (২৫), কাবিল মিয়া (৪০), কিবির মিয়া (২২), শালমান মিয়া (৩০), দুলাল মিয়া (২৫), আলফাজ উদ্দিন (৩০), সিরাজুল ইসলাম (২৫), সুহেল মিয়া (৪০), কামরুল (৪৫), ফকির আলম (৪৫), মেহেদী (২৩), নবী হোসেন (২০), জাকিল মিয়া (৪৫), হেলাল মিয়া (২৫) প্রমুখ।

অপরদিকে আবুল খায়েরের পক্ষের আহত হলেন, আবুল খায়ের (৪৫), উকিল মিয়া (৪০), সেলিম মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (৩৫), পারভেজ মিয়া (২২), সাজুল মিয়া (৪৫), সাদিকুর (৩০), দিলসাদ মিয়া (৩৫), নবী হোসেন (২০), রফিক মিয়া (৩৫), হাবিবুল (৩০) সাহিবুল (৩৩), রফিক (৪০) সহ অন্যান্যরা।

ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আবুল খায়ের শুক্রবার রাতে মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় আমাকে অকারণে গালিগালাজ করে। বিষয়টি আমার ভাই ভাতিজা শুনতে পেয়ে শনিবার সকালে খায়েরের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে সে উত্তর না দিয়ে অন্য গ্রামের লোকজন দিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করিয়েছে।

বিষয়টি অস্বীকার করে আবুল খায়ের বলেন- আমি শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলামকে গালিগালাজ করিনি। শনিবার দুপুরে বাজারে আসার পথে তার লোকজন-ই রাস্তায় আটকিয়ে বিনা কারণে আমাকে মারপিট করে এবং দুই লাখ টাকা, মোবাইল ও ডেবিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তাহিরপুর অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রথমে টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমিসহ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং এখনও এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।