জামালগঞ্জে কৃষি বিভাগের প্রণোদনায় কৃষকের ভাসমান বীজ তলা

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় বিশাল কৃষি জমিতে পানি থৈ থৈ। দেখলে মনে হয় বিশাল হাওর।

সেই হাওরের মাঝে এক খ- সবুজের হাতছানি। কাছে গেলেই অবাক হওয়ার মতো কচুরিপানার ওপর বীজতলা। গাঢ় সবুজে রোপা-আমন ধানের চারা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে দিকব্দিক। জমিতে এখনও হাঁটু পানি। বীজতলায় চারা মাথা উঁকি দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। সেই আগাছা ভেদ করে বীরদর্পে ভাসমান বীজতলা। এটি বৃষ্টি কিংবা বন্যায় ডুববে না। সেচের প্রয়োজন হবে না। কীটনাশক ছিটানো লাগবে না। সারের প্রয়োজন হবে না। এমন বীজতলা ছিল এতদিন কৃষকের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের বীজতলা বাস্তবে তৈরি করেছেন কৃষি অফিসের সহযোগিতায় কৃষকগণ।

জানা যায়, উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. জসীম উদ্দিন, আব্দুল খালেক ও শাহানূর মিয়া ভাসমান বেডে বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সময় মতো রোপা-আমনের চাষ করতে না পারায় ভাসমান বীজতলার উৎপাদিত চারা বিনা মূল্যে চাষীদের বিতরণ করা হবে।

কৃষক জসীম উদ্দিন জানান, প্রথমে কচুরিপানা এক সঙ্গে সংযুক্ত করে পচাতে হবে। তার উপর চারকোণা বেড তৈরি করে কচুরিপানার ওপরে ১ থেকে ২ ইঞ্চির মতো কাদা মাটি বিচিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। এভাবে ভীমখালী ইউনিয়নের ৮টি ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৮টি বীজতলায় ইতিমধ্যে চারা গজাতে শুরু করেছে।

চলতি আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এসব ভাসমান বীজতলার তৈরি চারা। চলছে পরিচর্যার কাজ। এসব বীজতলায় বিআর-২২ জাতের বীজ বপন করা হয়েছে। এই চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। চারা বিতরণ শেষে এই বীজতলায় বিভিন্ন সবজি চাষ করা হবে বলে জানান। ডুবে থাকা জমির পাশাপাশি পুকুর ও ডোবায় স্বল্প খরচে কম সময়ে এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করতে পেরে খুশি কৃষকরা।

কৃষক শাহানূর মিয়া জানান, বন্যার পানিতে আমার বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছি। চারা এখনও রোপনের উপযোগী হয়নি। জমি থেকে পানি নেমে গেলেই ধানের চারা লাগানো শুরু করব।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাসমান বেডে রোপা-আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, সরকার এসব বীজতলা তৈরির খরচ বহন করেছে। কারণ ফসল উৎপাদনে যেন বিলম্ব না হয়। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বন্যার কারণে বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই উপজেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে জামালগঞ্জে ১৬টি। আগামীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা যাতে উপকৃত হয় সে জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পানিতে ভাসমান বীজতলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।