সুনামগঞ্জে শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে টিকটক ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
১৩ বছরের এক শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে মাদক সেবন করিয়ে টিকটক ভিডিও চিত্র ধারণ করার অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোর গ্যাং’র ৮ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার গ্রেপ্তারকৃতদের ডিজিটাল নিরাপওা ও শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এরআগে রোববার কয়েকদফা অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই কিশোর গ্যাং’র সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হল, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাগলপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মনির হোসেন একই উপজেলার বাদাঘাট (কাশতাল চরগাঁও) গ্রমের হাবিবুর রহমান সংগ্রামের ছেলে মজিবুর রহমান সাগর, কামড়াবন্দ গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে তোফিকুল ইসলাম রনি, বাদাঘাট গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে আলম শেখ, একই গ্রামের আনোয়ারের ছেলে আনিসুল বারি তারেক, পৈলনপুর গ্রমের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মোজাম্মেল হক, বাদাঘাট বাজারের খোরশেদ আলমের ছেলে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাজির হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান দিপু।

রবিবার রাতে ডিজিটাল নিরাপক্তা আইন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিস্ট ধারায় ১০ জনের নামোল্লেখ করে উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের নেকবর মিয়ার ছেলে মোশারফ ওরফে আরিয়ান, একই গ্রামের মৃত ছাক্তারের ছেলে জিসান ওরফে বকুলকে পলাতক আসামী করে অজ্ঞাত নামা আরো ৭ হতে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলা ও অভিযুক্তের পারিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউরগড় (ঢালারপাড়) গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের ১৩ বছর বয়সী বুদ্ধি প্রতিবন্দী শিশু সন্তান শরিফ মিয়াকে কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা গলায় ধারালো দা ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে টিকটকের জন্য একাধিবার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এসময় তাকে মাদক সেবনও করানো হয়।

চলতি বছরের জুলাই হতে ধারণকৃত ভিডিও চিত্রগুলো কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিজেদের বিভিন্ন গ্রপ, পেইজ, টিকটকে, ইউটিউবে পোষ্ট করে।

এ ঘটনায় শনিবার ‘বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স’নামে একটি ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ হতে এ ধরণের ভীতিকর ভিডিওচিত্রের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, র‌্যাব সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি রবিবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর বেলা ১১টা হতে রাত ১১টা অবধি গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ, বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা থানার ওসি মো.আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং’র ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

সোমবার সন্ধায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমত প্রতিটি পরিবার থেকেই কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার পথ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে, এরপর আইনি ব্যবস্থা তো রয়েছেই।

তিনি আরো বলেন, যে কোন ধরণের অপতৎপরতা রোধে জেলার সকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে তৎপরতা রাখা হয়েছে।