জামালগঞ্জের পল্লীতে শ্মশানঘাটের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় মাতারগাঁও গ্রামের শ্মশানঘাট উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে বলে ওই গ্রামের লোকজন গত ২৫ আগস্ট ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, সরকারেরর গ্রাম উন্নয়ন অবকাঠামো (কাবিখা-খাদ্য শস্য) উন্নয়ন খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উল্লেখিত গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার্য একমাত্র শ্মশানঘাট উন্নয়নের জন্য একটি পিআইসির অনুকূলে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে কাজ সম্পন্ন করার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কথিত গোপন পিআইসি কমিটি কোন কাজ করেনি।

বিষয়টি গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন গ্রামের কবিন্দ্র তালুকদার সভাপতি ও প্রসিত তালুকদারকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পিআইসি কমিটি দেখানো হয়েছে। পিআইসির ওপর ৩ সদস্য হলেন পিযুষ তালুকদার, কিরন তালুকদার ও বিজিত তালুকদার। যা গ্রামের কেউ অবগত নয়। গ্রামের কাউকে না জানিয়ে গোপনে প্রকল্প কমিটি করে বরাদ্দ উত্তোলন ও মেয়াদান্তে কোন কাজ না করেই উত্তোলনকৃত বরাদ্দের সমুদয় টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করায় এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রামবাসী সরকারের বরাদ্দের ব্যাপারে কথিত সভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে জানতে চাইলে তাতে তারা কোন তথ্য না দিয়ে বলেন, আমাদের চাল আমরা উত্তোলন করেছি, তোমাদের জানাতে হবে কেন? সরকার থেকে মাল এনেছি সরকারকে জানাব। এতে করে সরকারি বরাদ্দের লুকোচুরি গ্রামের উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্মশানঘাট বরাদ্দের লুকোচুরি নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিপুল তালুকদার, পিন্টু তালুকদার, দেবন তালুকদার।

কথিত কমিটির সদস্য পিযুষ তালুকদার বলেন, কমিটি করার সময় একটা দস্তখত নিছিলো। এরপর আর আমি কোন দস্তখত দেই নাই। কিভাবে মাল তুলছে, কোথায় বিক্রি করছে, আমি কিছুই জানি না। কাজ হয়েছি কি না তাও জানি না। কবিন্দ্র কি করছে সেই জানে।
সভাপতি কবিন্দ্র তালুকদার বলেন, বন্যার কারণে মাল নেই নাই। এখন মিস্ত্রি বাও করছি। মিস্ত্রি বলছে দিন ধরলে কাজ করব। মালামাল পুথার মধ্যে রেডি আছে। প্রতিহিংসার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কাজ শেষ করে অফিসে মাস্টার রুল দিব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, অভিযোগটি এখনও আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।