এবার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি বিএনপির

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
টানা তিনবার আয় বাড়ার পর এবার ব্যয় বেড়েছে বিএনপির। দলটির আয়ের চেয়ে তিনগুণের বেশি ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া বিএনপির ২০১৯ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবিরর রিজভী আহমদ মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের কাছে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন।

এতে উল্লেখ করা হয়, বিগত পঞ্জিকা বছরে বিএনপির আয় হয়েছে ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১০ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা। আয়-ব্যয়ের পার্থক্য হচ্ছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ টাকা। অর্থাৎ আয়ে তিনগুণেরও বেশি ব্যয় হয়েছে।

দলগুলো মনোনয়ন ফরম বিক্রি, দলীয় সদস্যদের মাসিক চাঁদা, এককালীন অনুদান হতে আয় করে থাকে। আর অফিসের বিভিন্ন খরচ, নির্বাচনী ব্যয়, ত্রাণ কার্যক্রম, কর্মচারী বেতর-ভাতা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন প্রভৃতি খাতে ব্যয় করে থাকে। বিএনপি কর্মচারিদের বেতন-বোনাস প্রদানে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে। ৭৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে এ খাতে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জানা গেছে, ২০১৮ বছরে দলটির আয় হয়েছি ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০টাকা। আর ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩টাকা। তখন দলীয় তহবিলে মোট উদ্বৃত্ত ছিল ৬ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৩৭টাকা। এ হিসেবে বিএনপি তহবিল এবার কমে গেছে দেড় কোটি টাকার বেশি।

২০১৭ সালে দলটি মোট আয় দেখিয়েছিল ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা। আর মোট ব্যয় দেখিয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা। ৫ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা হাতে বা ব্যাংকে রয়েছে।

২০১৬ সালে দলটি আয় হয়েছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা। আর ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা। আয় বেশি হয়েছে ১৪ লাখ ৪ হাজার ৭৭৮ টাকা।

তবে এর আগের তিন বছর দলটি ঘাটতিতে ছিল। ২০১৫ পঞ্জিকা বছরে বিএনপি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা ঘাটতি দেখিয়েছিল। ওই সময় দলটি আয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।

২০১৪ পঞ্জিকা বছরে দলটি বিভিন্ন খাতে দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৪ টাকা আয় দেখিয়েছে। আর ব্যয় দেখিয়েছে তিন কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার টাকা। এতে আয়ের চেয়ে ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৬ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে দলটির।

২০১৩ পঞ্জিকা বছরে দলটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার ৭৬২ টাকা আয়ের বিপরীতে ২ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩২৬ টাকা ব্যয় দেখিয়েছিলো। সে সময় ঘাটতি ছিলো প্রায় দেড় কোটি টাকা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়। এবার ৩১ জুলাই ঈদের ছুটি ছিল। তাই আইন অনুযায়ী, ঈদের ছুটি শেষে গত ৩ আগাস্ট প্রথম সরকারি কর্মদিবস ছিল হিসাব জমা দেওয়ার শেষ সময়। পরে কমিশন হিসাব জমা দেওয়ার সময় ৩১ আগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী পর পর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করার বিধান রয়েছে। ইসির নিবন্ধনে বর্তমানে ৪১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে।