জামালগঞ্জে হাড়ি-পাতিল বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন সাবিত্রী পাল

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
বাংলাদেশে মৃৎ শিল্পের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের রূপকার হলেন কুমোর বা কুমারেরা। কুমারদের মাটি দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের ইতিহাস শত বছরের। এ এলাকায় কুমার শ্রেণি সাধারণত হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা পাল সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। বংশ পরম্পরায় তারা এ কাজ করে আসছে। নরম এঁটেল মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করেন রান্নাবান্নার বিভিন্ন তৈজসপত্রসহ খেলনা সামগ্রী। কুমারেরা হাড়ি-পাতিল, কলসী, সানকী, সরা, ফুলের টবসহ বাচ্চাদের খেলনা পুতুল, হাতি, ঘোড়া, গরু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। অতীতে পুরুষেরা বিভিন্ন নৌকা দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করত। বর্তমানে ধাতব ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার আদি পেশা আকড়ে রেখেছেন অনেক পরিবার। এ পেশায় অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ধাতব, প্লাস্টিক ও মেলামাইন জাতীয় দ্রব্যের বাজার দখল অন্যদিকে মাটির অভাবে এই শিল্পটি আজ হুমকির মুখে।
জামালগঞ্জ উপজেলার মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, এক সময় জমি থেকে মাটি তুলে এনে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হতো। আর এখন অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনে এনে বানাতে হয়। তাও এঁটেল মাটি এখন পাওয়া অনেক দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে মৃৎশিল্পীরা তাদের উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এমনটাই বলেছেন জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মৃত ব্রজেন্দ্র চন্দ্র পালের স্ত্রী সাবিত্রী রানী পাল।
তিনি জানান, আগে এক নৌকা মাটি আনতে ৩০০ টাকা লাগতো। এখন লাগে ১ হাজার ৫শ’টাকা। তাও এঁটেল মাটি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করার পর তা পুড়িয়ে রঙ করি। তারপর বিক্রি করি। আমার স্বামী মারা যাওয়ায় আমি এবং আমার মেয়ে এই কাজ করি। আমার পুড়া কপাল, আমার মেয়েটাকে বিয়ে দেওয়ার পর তার স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যায়। এক সময় আমাদের বাড়িতে দুর্গা পূজা হতো। কালের আবর্তে আজ আমি নিঃস্ব। আমি আমার মেয়ে হাড়ি-পাতিল বানিয়ে নিজেই প্রতিদিন সাচনা বাজারে এনে বিক্রি করি। যে পরিমাণ খরচ হয় সে তুলনায় লাভ অনেক কম। তবুও এ পেশা ছাড়া আর কোন পেশা জানা না থাকায় কম লাভ হলেও এই পেশায় আছি। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভ হয়। তা দিয়েই মা মেয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি।