সামাজিক মাধ্যম জীবনকে প্রভাবিত করছে

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক:
সামাজিক মাধ্যম পরিচিত, এমনকী অপরিচিতদের মধ্যেও সম্পর্ক ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকডিন, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে গোটা বিশ্বের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে সংযোগ রাখতে পারছে। তবে এই মাধ্যমগুলো আমাদের জীবন যেমন সহজ করছে তেমনি অনেক ক্ষেত্রে জটিলতাও তৈরি করছে। বিশেষ করে এর নেতিবাচক ব্যবহার অনেকের দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সামাজিক মাধ্যম বিভিন্নভাবে জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই মাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা যায়। অনেকে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। কখনও কখনও এ ধরনের সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার সামাজিক মাধ্যম কখনও অন্যের সঙ্গে তুলনা করার মানসিকতাও তৈরি করে। সামাজিক মাধ্যম যেভাবে ইতিবাচক ও নেতিবাচকভাবে আমাদেরকে জীবনকে প্রভাবিত করছে-

১. নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম উপায় হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম। সব সময় সবার সঙ্গে চাইলেই দেখা করা যায় না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে এটা খুব সহজেই করা যায়। আবার পেশাগত সমস্যাগুলি সমাধান করার ক্ষেত্রেও এই মাধ্যম বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অনেকে অনলাইনে মুখোমুখি দেখা হয়নি এমন মানুষের সঙ্গেও নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করেন। পরবর্তীতে যা তার দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত যোগাযোগ যাই হোক না কেন অনলাইনে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর আগে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।

২. অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমের কোনো বন্ধু, পরিচিত জন আপনার ওপর রাগান্বিত হয়ে প্রতিশোধ নিতে এমন সব পোস্ট দেন যা আপনাকে সামাজিক, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অনলাইনে পরিচয় হয়েছে, কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখাও হয়নি এমন বন্ধুর নেতিবাচক আচরণ কিংবা পোস্ট আপনার মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে। তাই অনলাইনে বন্ধুত্ব গড়ার ক্ষেত্রেও সাবধান থাকা উচিত।

৩. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যম মানুষের মধ্যে বিষন্নতা বাড়াচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, অনলাইনের মাধ্যমে আপনি আপনার পরিচিত জনের সফলতা, তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে জানছেন। আপনি তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না এমন অনুভব করে খুব সহজেই বিষন্ন হয়ে পড়ছেন। তাই সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিতা বাড়ানো থেকে দূরে থাকুন। একান্ত প্রয়োজন না হলে এ মাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করবেন না।