আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী: প্রতিশ্রুতি পূরণে দায়িত্বশীল হতে হবে

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক:
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়ভিত্তিক কর্তব্য পালনে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভায় যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ স্থাপনাগুলো সংস্কার এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের ২০ তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন’ এর নকশা এবং ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত প্লান এর ভূমি ব্যবহার’ পরিকল্পনার উপস্থাপনা দেখতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই এবং আমরা স্বাধীন দেশ এবং স্বাধীন জাতি। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে চাই।

জাতির পিতার যেই স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ হোক। বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা সেভাবেই বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। আজকে তিনি আমাদের মাঝে নেই। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এইটুকু বলব, তার আকাঙ্খাটা পূরণ করা। বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, উন্নত, শিক্ষিত, আধুনিক বিজ্ঞান জ্ঞানসম্পন্ন একটা জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে আমরা গড়ে তুলব এবং বাংলাদেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা করব- এটাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় পাবলিক লাইব্রেরি নতুন করে তৈরি করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পাবলিক লাইব্রেরি এটাও অনেক পুরনো। অডিটোরিয়াম থেকে শুরু করে সবকিছুই জরাজীর্ণ অবস্থা..খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। আর সেখানে আমি মনে করি আমাদের মিউজিয়াম যেটা আছে ন্যাশনাল মিউজিয়াম মিউজিয়ামটা ঠিকই থাকবে যেভাবে আছে ওটা থাকুক… কিন্তু পুকুরটাকে সুন্দর করে রাখা। পুকুরটার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের যে পাবলিক লাইব্রেরি তার একটা ল্যান্ডস্কেপ করে সেখানেও খুব সুন্দরভাবে একটা মর্ডার্ন পাবলিক লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম এবং আমাদের সাইবার ক্যাফে সবকিছু মিলিয়ে ওটাকে আরো সুন্দরভাবে, নতুনভাবে তৈরি করা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জরাজীর্ণ স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই কাজগুলো কিন্তু আমার মনে আমরা যদি খুব দ্রুত একটু শুরু করি তাহলে.. এখনতো করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের অনেক কাজ স্থবির কিন্তু আমরা এই কাজগুলো কিন্তু শুরু করতে পারি এবং শেষ করতেও পারি খুব তাড়াতাড়ি। আর এর জন্য যা অর্থ সংকুলান সরকার থেকেই আমরা করে দেব। আমি দিতেও চাই। কিন্তু কাজগুলো আমি চাচ্ছি একটু তাড়াতাড়ি এগুক যাতে সুন্দরভাবে আমরা..এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সবই বন্ধ। তার মানে এটাই হচ্ছে সব থেকে ভালো সময় কাজ করবার, নিরিবিলি কাজগুলো করা যেতে পারে।

নির্মাণ কাজগুলো তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, অনেকগুলো তো প্লান করাই আছে। মেডিকেল কলেজটা করা আছে; কিন্তু আবার টিএসসিটা করা হয়নি। টিএসসি যেহেতু ঢাকা ইউনিভার্সিটি, আমাদের ইউনিভার্সিটি আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ওই ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। আমি নিজে ওখানে ছাত্রী ছিলাম। কাজেই ইউনিভার্সিটির প্রতি আমাদের সবসময় একটা আলাদা অনুভূতি রয়েছে। এই জায়গাটা আমি চাচ্ছি একটু সুন্দর করে করা।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে ‘জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করায়’ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভায় যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। জাতির পিতা আমাদের এটাই শিখিয়েছেন। এটাই তার আদর্শ।

মহামারীর মধ্যে থমকে যাওয়া দলের সাংগঠনিক তৎপরতা আবার গতিশীল করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। করোনার কারণে অনেক জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখন সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ করার ব‌্যবস্থা নিতে হবে। ঐক‌্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে।