অজুর অর্থ

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
অজুর অর্থ হলো- পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্নতা, জ্যোতি। অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানির সাহায্যে শরীরের বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ধোয়া শরিয়ত মতে যে ব্যবস্থা রয়েছে তাকেই অজু বলে।

অজুর অর্থ সম্পর্কে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হাদিস পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো-

১. হযরত আবু হোরায়রা ও মালেক বিন আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না যে, কিসের দ্বারা গুনাহ্ (পাপ) মুছে যায় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কষ্ট বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও অজু করা, মসজিদের দিকে পুনরায় যাওয়া এবং এক নামাজ শেষ করে আবার নামাজের জন্য অপেক্ষায় থাকা। তাহলো রেবাত (অধ্যবসায়,প্রস্তুতি)। (মুসলিম, তিরমিজী)

২. হযরত উসমান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, তার গুনাহসমূহ শরীর হতে বের হয়ে যায়। এমনকি নখের নিচ হতেও বের হয়ে যায়। (বোখারী, মুসলিম)

৩. হযরত ওকবাহ বিন আমের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, যে মুসলমান উত্তমরূপে অজু করে মুখমণ্ডল ও মন ‘কিবলার’ (মক্কার) দিকে ‘রুজু’ করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য বেহেশত নিশ্চিত। (মুসলিম)

৪. হযরত উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের যে কেউ পূর্ণভাবে অজু করে বলবে- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজা খুলে যাবে। সে যে কোনোটির ভিতর দিয়ে ইচ্ছামতো ঢুকতে পারবে। (মুসলিম)

৫. হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূল (সা.) বলেছেন, অজুর দরুন উজ্জ্বল চিহ্নের ললাটবিশিষ্ট আমার উম্মতের বিচারের দিন ডাকা হবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়, সে যেনো তা করে। (বোখারী, মুসলিম)

৬. হযরত ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূল (সা.) বলেন, যে এক অজু থাকতে অন্য অজু করে তার জন্য দশটি নেকি (পুণ্য) লেখা হবে। (তিরমিজী)

৭. হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূল (সা.) বলেছেন, অজু ছাড়া নামাজ কবুল হয় না, আর যার অজু ভঙ্গ হয়েছে পুনরায় অজু না করা পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হবে না। (বোখারী, মুসলিম)

৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূল (সা.) বলেন, যে শয্যায় নিদ্রা যায়, সে যেনো অজু করে। কেননা শায়িতাবস্থায় গ্রন্থিগুলো শিথিল হয়ে যায়। (তিরমিজী, আবু দাউদ)

হাদিসগুলো ‘বিষয় ভিত্তিক হাদিসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ বই থেকে সংগৃহীত।