জেলা কমিটিতে ‘ভূত’, তাড়াবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ৪:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভূত’ যেন আওয়ামী লীগ থেকে যাচ্ছেই না। আওয়ামী লীগ সভাপতির বারবার নির্দেশনা এবং কঠোর হুশিয়ারির পরও জেলা কমিটিগুলোতে অনুপ্রবেশকারীর ভূত ঢুকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বিরোধী প্রাক্তন জামাত কর্মী বা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কমিটিতে জায়গা পাচ্ছেন। কিভাবে তারা কমিটিতে ঢুকছেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই এখন বিতর্ক উঠেছে। গত বছর ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের পর জেলা কমিটিগুলো গঠিত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ৪৭টি জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। এই জেলা কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা অনুমোদনের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দেখা গেছে যে, এই জেলাগুলোর যে কমিটি হয়েছে, সেখানে বিতর্কিত ব্যক্তিরা আছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজন আওয়ামী লীগের অনেক জেলা কমিটিতেই ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, বারবার তাগদা দেওয়া, বারবার নির্দেশনা দেওয়া, সতর্কতা বার্তা দেওয়ার পরও জেলা কমিটিতে কিছু কিছু অসঙ্গতি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি থাকা হতাশাজনক। ৪৭ টি জেলার কমিটি হয়েছে। তাতে কয়েকটি মৌলিক সমস্যা পাওয়া গেছে যে, যা আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক। এর মধ্যে রয়েছেঃ

পকেট কমিটির প্রবণতা

অধিকাংশ জেলা কমিটি ওই জেলার আওয়ামী লীগের যে প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা বা হেভিওয়েট নেতা, তার অনুগত ব্যক্তিদের নিয়েই গঠিত হয়েছে। ওই জেলায় আওয়ামী লীগের যে হেভিওয়েট নেতা তার প্রতিপক্ষ বা অনুগত নন, যিনি ত্যাগী পরীক্ষিত তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু অনুগতদের দিয়ে কমিটি করা যাবে না- এটি আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনা ছিল। এবারও কমিটিতে দেখা গেছে, বেশ কিছু ব্যক্তি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যারা রাজনৈতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে নন। তারা বিএনপি, জামাতপন্থী রাজনীতির সাথে বিভিন্ন সময় যুক্ত ছিলেন। এবারও তাদেরকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০০৮ এর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মেরুকরণ ঘটে এবং তারপরেই আওয়ামী লীগে বিপুল পরিমাণে বিএনপি জামাতপন্থীরা ঢুকতে শুরু করে। বিশেষ করে ২০১৪ এ জামাতের আগুন সন্ত্রাস এবং জ্বালাও পোড়াও এরপর যখন সারা দেশে সন্ত্রাস সহিংতার বিরুদ্ধে বিএনপি এবং জামাতের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তারপর বিএনপি এবং জামাতের একাংশ আওয়ামী লীগে ঢুকে এই মামলা থেকে বাঁচার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই ধরণের ব্যক্তি এখনও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন, বলে জানা গেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, যে ৪৭ টা কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত নয়। এখনও ১৭ টি কমিটি বাকি আছে। সেই কমিটিগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটি চূড়ান্ত করে নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, জেলা কমিটি যে নামের তালিকা দিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত হবে না। এবার যাচাই-বাছাই হবে এবং ৩ টি স্তরের যাচাই-বাছাইয়ের পর, এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। তিনি এটা বলেছেন যে, যদি জেলা কমিটিতে যদি কোন অনুপ্রবেশকারী ‘ভূত’ থাকে, তবে সেই ভূত তাড়াবেন শেখ হাসিনা নিজেই।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে না দেখিয়ে কোন কমিটি যেন অনুমোদন না দেয়া হয়। অতীতে ব্যস্ততার জন্য বা বিভিন্ন বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি অনেক সময় জেলা কমিটি অনুমোদনের দায়িত্ব দলের সাধারণ সম্পাদক বা প্রেসিডিয়ামের কোন সদস্যকে দিয়ে দিতেন। অনেক সময় দপ্তর থেকেই কমিটিগুলোর অনুমোদন দেয়া হতো, আওয়ামী লীগ সভাপতির মৌখিক সম্মতি নিয়েই। কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, এবার জেলা কমিটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ৩ টি পদক্ষেপ অনুসরণ করা হবে। জেলা পর্যায় থেকে নামের সুপারিশ করা হবে সেটি সংশ্লিষ্ট জেলার যেই সাংগঠনিক সম্পাদকের অধীনে, সেই সাংগঠনিক সম্পাদক সেটি যাচাই-বাছাই করবেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় উপস্থাপন করবেন। সম্পাদক মণ্ডলীর সভায় এটি যাচাই-বাছাই হওয়ার পর, এটি যাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি তার নিজের উদ্যোগে এ ব্যাপারে তদন্ত করবেন।

যারা যারা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এই সমস্ত যাচাই-বাছায়ের ক্ষেত্রে যদি তাদের সম্বন্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়া যায়, তবেই তারা জেলা কমিটিতে থাকতে পারবেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, সারা দেশের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক চিত্র শেখ হাসিনার নখ দর্পণে এবং সব নেতাকেই তিনি চেনেন। কাজেই এবার শেখ হাসিনার নজরদারিতে থাকার কারণেই জেলা কমিটিগুলোতে ‘ভূত’ থাকতে পারবে না।