দিরাই আ.লীগের বিরোধ তুঙ্গে, অভিভাবকহীন পৌর আ.লীগ

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার::

আগামী ২৪ নভেম্বর দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কে কেন্দ্র করে দলের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন তুঙ্গে। এর প্রভাব পড়ছে সহযোগী সংগঠনগুলোর উপর। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীন নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে আমরা দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে গড়ে তুলি, এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন রনদা প্রসাদ রায় চৌধুরী, সহ সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সর্দার দ্বায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং লবিং ছিলনা, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন গনতন্ত্রী পার্টি নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগে যোগ দিলে শুরু হয় গনতন্ত্রী পার্টিপন্থী ও আওয়ামী লীগ পন্থীর মধ্যে বিরোধ, আধিপত্যের বিরোধের জের ধরে ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে দিরাই বাজারে প্রকাশ্যে তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি নান্টু রায় নিহত হন। এ হত্যার জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সামাদ আজাদের জামাতা আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন। অবশেষে আব্দুল কুদ্দুছ মান অভিমানে আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন, তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রনদা প্রসাদ রায় রাজনীতি থেকে অবসর নেন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলে আওয়ামীলীগ চলে যায় সুরঞ্জিত অনুসারীদের কবলে, এরপর থেকে আওয়ামী লীগের মা-বাবা হয়ে যান সুরঞ্জিত ও তার অনুসারীরা। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বেঁচে থাকতে তাঁর অনুসারীদের মাঝে বিরোধ হলে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিরোধের নিষ্পত্তি করে দিতেন, তাঁর প্রয়ানে দলটি এখন দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর সুরঞ্জিত পন্থী জয়া সেনগুপ্তা উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুয়েত প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব হোসেন রেজু মিয়ার পক্ষে মাঠে নামেন আওয়ামীলীগের একাংশ। এ বিরোধ এখন আরো তুঙ্গে। জয়া সেনগুপ্তা অনুসারীরা ২ ভাগে বিভক্ত, এছাড়াও রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মতিউর রহমান ও সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলাম অনুসারীরা। গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রদীপ রায় তার পরাজয়ের জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলয়ের অপরপক্ষ কে দায়ী করে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশ চলছে পরস্পর কাঁদা ছুড়াছুড়ি। ২৪ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এ বিরোধ ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে ৩ বলয়ের লোকই দলের সভাপতি সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে নিতে জেলা এবং কেন্দ্র জোর তদবির চালাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানাযায় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সভাপতি প্রার্থীরা হলেন বর্তমান সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলতাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এডভোকেট সোহেল আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান বুলবুল। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়,সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অভিরাম তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন কুমার রায়, যুবলীগ নেতা মকসুদ আলম সহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। অপর দিকে পৌর আওয়ামী লীগ প্রায় চার বছর ধরে অভিভাবকহীন, একাধিক ত্যাগী নেতা কর্মীরা জানান, দিরাই পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচনের কিছু দিন পূর্বে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান বুলবুল দেশে আসেন, আওয়ামী লীগে নতুন মুখ বুলবুল খুব সহজেই ম্যানেজ করে নেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কে হাতিয়ে নেন তাঁর আশির্বাদ, পৌর নির্বাচনে আজিজুর রহমান বুলবুল কে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকালে নেতাকর্মীদের তোপে মুখে পড়েন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বুলবুল কে রাজনীতিতে নতুন মুখ দাবি করে বক্তব্য রাখেন। এসময় সভাস্থল উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, পরে উপজেলার দত্তগ্রামে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে পৌর নির্বাচনে আজিজুর রহমান বুলবুল কে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। জিতে ও জান ভোট যুদ্ধে, এর পর আর পিছনে থাকাতে হয়না রাজনীতিতে তাকে। চার বছর আগে অনুষ্ঠিত পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতির গুরুত্বপুর্ন পদটি নিয়ে চার বছর ধরে লন্ডনে আছেন তিনি, এক সদস্যদের পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি আজ ও আলোর মূখ দেখেনি, মেয়র হয়েও অধিকাংশ সময় লন্ডনে থাকতেন তিনি যার কারণে মেয়র হয়ে জনসেবায় সফল না হয়ে মেয়াদ শেষে অনেকটা নিরবে চলে যান নিজ কর্মস্থল লন্ডনে, আজ ও দেশে ফিরেননি। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রঞ্জন রায় বলেন, আমরা প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী জয়া সেনগুপ্তার নেতৃত্ব ঐক্য বদ্ধ, একটি সুবিধাবাদী চক্র আমাদের দলে বিরোধ সৃষ্টি করতে চায়, গত উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনীত করেছিল কিন্তু আমাদের দলের সুবিধা বাদীরা আমার নাম কেন্দ্রে পাঠায়নি, আমি তৃনমূলের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করেছি, এ নিয়ে বিভ্রান্তি চড়ানোর অবকাশ নেই, আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি, দলের দুঃসময়ে কাজ করেছি, উড়ে এসে জুড়ে বসিনি, রাজনীতি করে ফকির থেকে কোটিপতি হয়নি, আজীবন ত্যাগের রাজনীতি করেছি, আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই দাবি করে ওই নেতা বলেন আসন্ন উপজেলা সম্মেলনে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে সুবিধা বাদীরা দলে বিরোধের পাঁয়তারা করছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদার বলেন আমাদের সংগঠনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে কোনো বিরোধ নেই,আসন্ন উপজেলা সম্মেলনে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন হউক সেটা আমি চাই। পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ দৌলা বলেন দীর্ঘদিন আগে (সঠিক তারিখ বলতে পারেননি) তৎকালীন পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল কে সভাপতি করে এক সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন আমাদের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এরপর থেকে কমিটির কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এব্যাপারে আজিজুর রহমান বুলবুল লন্ডনে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।