,

সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সম্মেলন : পদধারীরা শঙ্কায়, বঞ্চিতরা উচ্ছ্বসিত

বিশেষ প্রতিনিধি ::
আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এমন খবরে পদে থাকা অনেকেই যেমন পদ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন, তেমনি এর বিপরীতে দলের দুঃসময়ে জীবনবাজি রাখা পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতারা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ যদিও গণমাধ্যমকে বলেছেন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পূর্বে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলছেন, জেলা কমিটির মেয়াদ থাকায় সম্মেলন হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারপরও দলীয় শীর্ষ নেতার কাছ থেকে সম্মেলন হওয়ার বিবৃতি আসায় অনেকটাই নড়েচড়ে বসেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমানকে সভাপতি ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমনকে সাধারণ সম্পাদক করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদী এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি। যদিও আংশিক কমিটি গঠনের দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
দলীয় সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তার অংশ হিসেবেই ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর পর্যন্ত নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ইমেজের নেতৃত্ব ওঠে আসে। পাশাপাশি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ত্যাগীরা কমিটিতে জায়গা পান।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছিল সেই কমিটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে দলের দুঃসময়ে অবদান রাখা প্রতিশ্রুতিশীল অনেক ত্যাগী নেতা। তার বিপরীতে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ ছিল কমিটির পরতে পরতে। সহোদর তিন ভাই থেকে শুরু করে, ভাই-ভাই, পিতা-পুত্র, মামা-ভাগ্নেকে কমিটিতে জায়গা দেওয়ার কারণে বঞ্চিত হয়েছিলেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের কারণে জেলা ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের ঠাঁই হয়নি ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে।
সূত্রমতে, জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে এমন খবরে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন দলের দুঃসময়ে জীবনবাজি রাখা পদবঞ্চিত নেতারা। চলমান শুদ্ধি অভিযানের সময় নতুন করে কমিটি গঠন হলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম বলেন, পত্রিকায় দেখেছি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। যদি সম্মেলন হয় তবে সেটাকে আমরা স্বগত জানাই। আশা করি দুর্নীতিবাজ, অনুপ্রবেশকারী ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সুন্দর কমিটি নেত্রী আমাদেরকে উপহার দিবেন। দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ত্যাগী নেতারা কমিটিতে মূল্যায়িত হবেন।
এর বিপরীতে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তারিখকে জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদ শুরুর তারিখ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, কমিটির মেয়াদ এখনও রয়েছে, তাই নতুন করে কাউন্সিল হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে এমন কথা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কোন নেতা আমাদেরকে জানাননি।
এদিকে, কাউন্সিল হচ্ছে এমন কথা অস্বীকার করলেও চলমান ইউনিয়ন উপজেলা কাউন্সিলে নিজেদের পছন্দের লোকদের জায়গা করে দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে সম্মেলনে কাউন্সিলর বাড়াতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন তারা।
সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ইতোপূর্বে দৈনিক সুনামকণ্ঠকে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পর্কে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ১৪ ইউনিটে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমকে একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলাগুলোর সম্মেলন আগে করা হচ্ছে। উপজেলা সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর