দুই মন্ত্রী, চার এমপির উপস্থিতিতে উপেক্ষিত ❛সামাজিক দূরত্ব❜

প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সরকারি সফরে এসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি দুজন মন্ত্রী ও চারজন সাংসদসহ উপস্থিত কেউই।বুধবার সুনামগঞ্জে আনুষ্ঠানিক সফরে আসেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ এমএ মান্নান।এ সময় অভ্যন্তরীণ ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন, কম্বাইন হারভেস্টার হস্তান্তর, ধান কাটায় অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণসহ নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এই দুই মন্ত্রী আর এ সবকটি কার্যক্রমেই নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। মন্ত্রীদ্বয়, সুনামগঞ্জের চার সাংসদ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ উপস্থিতিদের অধিকাংশই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েছিলেন।

মন্ত্রীদ্বয় ছাড়াও এসকল কার্যক্রমে সার্বক্ষণিকভাবে সাথে ছিলেন ৪ জন স্থানীয় সংসদ সদস্য—মুহিবুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও শামীমা আক্তার খান এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে সংক্রমণ মোকাবেলা ও বিস্তার রোধে গত ২৯ মার্চ থেকেই সাধারণ ছুটি চলছে দেশে আর জনগণের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।তবে কাঁচাবাজার, ব্যাংক, ত্রাণ ও ওএমএস এর লাইন, চালু থাকা শিল্পকারখানা, কৃষিক্ষেত্র, চা-বাগান, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

এদিকে, হাওরে এসে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কৃষকের উন্নয়ন সরকার অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কৃষকের ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফসল, মৎস্য ও খামারিদের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন। এছাড়া সার, বীজ, সেচ, বিদ্যুতের উপর ৯ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ বছর আগামী যে ফসল আউশ বেশি উৎপাদন করা যায় এবং পাঠ, তীর ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি বেশি করে উৎপাদন করা যায় সেজন্য আরও ১৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

আরও বলেন, আমরা আগামী আমন পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়েছি। কারণ এ করোনার প্রভাবটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই আগামী রবিশস্য বেশি করে উৎপাদন ও চাষাবাদ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনই বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এক ইঞ্চি জমি যেন বাদ না যায়। সারা পৃথিবীতে যদি খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয় সেখানে বাংলাদেশে ধান চালে এতে উদ্বৃত্ত আছে, আমরা সেই উদ্বৃত্ত নিয়েই বিশ্বের অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে পারবো।

মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জ এসে ভালো লাগলো। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জে ৭৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। সারা হাওর এলাকায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। সরকার হাওর এলাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়েছেন যার একটি দাম ২৮ লক্ষ টাকা, যেখানে সরকার দিচ্ছে ২১ লক্ষ টাকা আর কৃষক দিচ্ছে ৭ লক্ষ টাকা, যার মাধ্যমে আমরা সারা দেশে ৪০০ অধিক কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে হাওর এলাকায় ধান কাটা হচ্ছে। তাই আমরা আশা করি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমরা ধান কেটে ঘরে তুলে ফেলতে পারবো, এবং কৃষকরা ভালো দামেই তা বিক্রি করতে পারবেন। আমি হাওরের কৃষকের মুখে হাসি দেখেছি। আমরা সবসময় বলি বাংলা মায়ের মুখের হাসি ধানের শীষে।