মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে মহাঅসন্তোষ

প্রকাশিত: ১:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগেই এ নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। খসড়া কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রে ‘বিকল্প কমিটি’ও জমা দিয়েছেন বিক্ষোব্দ নেতারা। ফলে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সিলেটে ক্ষমতাসীন দলটির বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হন এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। আর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হন অধ্যাপক জাকির হোসেন।

আংশিক কমিটি গঠনের নয় মাস পর কেন্দ্রের নির্দেশে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা জমা দেন সভাপতি-সম্পাদক। এর একদিন আগে জমা দেওয়া হয় জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা।

কেন্দ্রে জমা দেওয়া খসড়া তালিকা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষত কাঙ্খিত পদ না পাওয়া অনেক নেতাই বিক্ষোব্দ হয়ে ওঠেছেন। তারা ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দেখা করে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

বিক্ষোব্দ নেতাদের অভিযোগ, এবার মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। গত কমিটিতে থাকা অনেক নেতাদেরই এবারের কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রেও জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

মহানগর কমিটিতে কাঙ্খিত পদ না পাওয়া একাধিক নেতা বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের কারো সাথে আলোচনা না করেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। নিজেদের অপছন্দের লোকদের কমিটিতে রাখেননি তারা। আর নিজেদের অনুসারী অনেককে অতিমূল্যায়ন করেছেন।

তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের অনুসারীদের খসড়া কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এদের অনেককে কমিটিতে রাখাই হয়নি।

তবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো যাদের ইমেজ সঙ্কট রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্নদের নিয়ে কমিটি করার জন্য। আমরা সেই নির্দেশনা পালন করেছি। বাকীটা কেন্দ্রিয় নেতারা যাছাই-বাছাই করবেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উর্ধে উঠে আমরা একটা ভালো কমিটি করার চেষ্টা করেছি। যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে তার পুরোটা সত্য নয়।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, কেন্দ্রে জমা দেওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গত কমিটিতে থাকা অনেককেই রাখা হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম, সিরাজ বক্স, মফুর আলী, তুহিন কুমার দাস, তপন মিত্র, জগদীশ দাস, এডভোকেট শামসুল ইসলাম, ফাহিম আনোয়ার চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন রানা, রাধিকা রঞ্জন হোম চৌধুরী, শাহানারা বেগম, প্রিন্স সদরুজ্জামান, মিছবাউল ইসলাম সুইট, আবরার আহমদ প্রমুখ।

বিগত কমিটিতে ছিলেন কিন্তুূ এবারের মহানগর কমিটির খসড়া তালিকায় নাম নেই এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে এটি সভাপতি-সম্পাদকের পকেট কমিটি। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অনেককেই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন কমিটির মাধ্যমে দলকে বিতর্কিত এবং দুর্বল করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহানগরের তুলনায় ব্যাপক না হলেও অসন্তোষ রয়েছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও।

জেলা কমিটির বিরুদ্ধেও কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কাঙ্খিত পদ না পাওয়া কয়েকজন নেতা।

এদের একজন গত কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী। সর্বশেষ সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।

প্রস্তাবিত কমিটিতে নিজেকে মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগ করে জগলু বলেন, আমি গত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। এই কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। জেলার বর্তমান শীর্ষ নেতারা কমিটিতে নিজেদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি রাখতে চাচ্ছেন না। তাই ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজেদের আস্থাভাজনদের দিয়ে কমিটি করছেন তারা।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন বলেন, কেউ লাফ দিয়ে উপরে উঠতে চাইলে তো হবে না। আমরা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে কমিটি করেছি। গত কমিটিতে থাকা কোনো সক্রিয় নেতাকেই আমরা বাদ দেইনি। সবাইকে মূল্যায়ন করেছি।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানের আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এমন অসন্তোষ-অভিযোগ প্রসঙ্গে শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যেসব কমিটির তালিকা ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে সেগুলোর নাম এখনই ঘোষণা করা হবে না। যাচাই বাছাই করে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নাম তালিকায় আছে কি না তা দেখা হবে বলে জানান তিনি।