নিশিকান্তের হাতে জিম্মি শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

জেসি বিশ্বাস,শাল্লা:
নিশিকান্ত তিনি স্বঘোষিত ইউএইচসি তার দাপটে অনেকটা নিরুপায় হাওর পাড়ের মানুষের একমাত্র চিকিৎসাস্থল শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তিনি এমএলএসএস পদ থেকে হিসাব সহকারী পদে প্রোমোশন পেয়েই সে নিজকে হাসপাতালের ইউএইচসি ভাবতে শুরু করায় তার দাপটে,হাসপাতালের সবাই থাকে বস মেনেই কাজ করতে হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালের সিন্ডিকেটের সাথেও তার নাকি খুব লিয়াজো, এছাড়াও নিজ এলাকায় চাকরির সুবাধে তার কাছে অনেকেই অসহায়। নিশিকান্ত তালুকদার স্বাস্থ্য বিভাগে ১৯৯৪ সালে এমএলএসএস পদে যোগদান করেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়। চাকুরিতে যোগদানের সময় তার পরিবার বা নিজের কিছুই ছিল না বলে জানান এলাকাবাসী। ছাতকে সাত বছর চাকুরির পর ২০০১ সালের অক্টোবরে শাল্লায় যোগদান করে নিশিকান্ত। এর পর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একটানা ১০ বছর কাটান শাল্লা উপজেলা হাসপাতালে। এই সময়েই তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে তিনি হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

১০ বছর পর আবার বদলী হন তাহিরপুর উপজেলায়। সে যায়গা থেকে ২০১২ অক্টোবরে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রধান সহকারি কাম হিসাব সহকারি পদে যোগদান করেন। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ১৩ সালের জুলাই মাসে চলে আসেন নিজ উপজেলা শাল্লায়। দু’দফায় তিনি প্রায় ১৭ বছর একই কর্মস্থলে নিজ এলাকায় চাকুরী করেন অত্যন্ত ধাপটের সাথে।

নিশিকান্ত তালুকদারের বিরুদ্ধে ২০১৯ শাল্লা হাসপাতালের ১২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন হাসপাতালের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ, তাদের মাসিক বেতন থেকে অর্থ কেটে নেয়া, টাকার বিনিময়ে ছুটি প্রদান, ভূয়া বিল-ভাউচারে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয়া, বদলী জনিত উৎকোচ গ্রহণ করেন তিনি।কিন্তু নিশিকান্তের লম্বা হাত থাকার কারনে তার কোন তদন্ত আজও হয়নি।

জানা যায়, টাকা না দিলে হাসপাতালের অন্য কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার ফাইলসহ অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্যতার ফাইল ধরেন না তিনি। তাছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই তিনি। ২০১৮ সালে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে লোক নিয়োগে তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ অনেকের। তাছাড়া তিনি ৩য় শ্রেণির একজন কর্মচারী হয়ে প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি ১ম শ্রেণির সরকারি বাস ভবন দখল করে বসবাস করে আসছেন নির্বিঘ্নে। যেখানে অনেক মেডিকেল অফিসাদের থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরে অথবা এক বাসায় গাদাগাদি করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, এবছরও নিশিকান্ত তালুকদার কর্মচারীদের প্রাপ্য শ্রান্তি বিনোদন ভাতার টাকা হতে ১৫শ’ থেকে ২৫শ’ করে টাকা কেটে নিয়েছেন। শাল্লা থেকে সদ্য বদলীকৃত সিনিয়র ষ্টাফ নার্স শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি বদলী হয়ে চলে এসেছি। কি আর বলবো, নিশিদার যন্ত্রনায় আমরা মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছিলাম। মূলত টাকা না দেয়ায় শহিদুল ইসলাম ও শামীমের যোগদানপত্র সে উপরে পাঠায়নি বলেই এ অভিযোগ করেছিলাম। এখন আমি ও শহিদুল বদলী হয়ে চলে এসেছি।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফেরদৌস আক্তারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি, সবকিছু আমি এখনো অবহিত নই। যদি কারো কাছ থেকে নিশিকান্ত শ্রান্তি বিনোদন ভাতা হতে উৎকোচ নিয়ে থাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নেবো।

এবিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ সামসুদ্দীন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে এরকম কোন অভিযোগ আসেনি। এরকম অভিযোগ পেলে শুধু ব্যবস্থা নয় চুড়ান্ত ব্যবস্থা নিব।