এবার ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে দুই মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক :
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের কাছে হিজাব পরিহিত দুই নারীকে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত হয়েছেন অন্য দুই নারী।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি দুই মুসলিম নারীর হিজাব টেনে নেয়ার চেষ্টা এবং বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে ওই দুই নারীর বিরুদ্ধে।

গত সপ্তাহে প্যারিসের উপকণ্ঠে ইতিহাসের এক শিক্ষককে হত্যার পর এ ঘটনা ঘটে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাখ্যা করেছিলেন স্যামুয়েল প্যাটি। সেই ‘অপরাধে’ তাকে হত্যা করে ১৯ বছরের এক চেচেন যুবক।

আইফেল টাওয়ারের কাছেই চ্যাম্প দে মার্স পার্কে বাচ্চসহ একটি মুসলিম পরিবার হাঁটার সময় হামলার শিকার হন। এ সময় হামলাকারী দুই নারী মদ্যপ ছিল বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।

হামলাকারীদের একটি কুকুর নিয়েও অভিযোগ করেছেন মুসলিম পরিবারটি। কুকুরটি দ্বারা তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মূলত কুকুর টেনে ধরে ১৯ ও ৪০ বছর বয়সী দুই মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

৪০ বছর বয়সী নারীর দেহে ছয়বার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর তরুণীটি শিকার হন তিনবার ছুরিকাঘাতের। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

এদিকে স্যামুয়েল প্যাটির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দেশটিতে। যার জেরে চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। এর মধ্যে ঘৃণাবাচক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একটি মসজিদ।

বৃহস্পতিবার প্যাটিকে মরণোত্তর লিজিয়ন অব অনার দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। এটাই ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান।

এদিন সারবন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত হয়েছিলেন প্রায় চারশ মানুষ। সেখানেই সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা নিয়ে আসেন শিক্ষক প্যাটির কফিনবন্দি দেহ।