শ্রীমঙ্গলে রেলের শত কোটি টাকার জমি ধরে রাখতে পারছে না কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

কালনী ভিউ ডেস্ক::
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দফায় দফায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও রেলের শত কোটি টাকার জমি ধরে রাখতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে রেলের এক শ্রেীণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে দিনের পর দিন রেলের মূল্যবান সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালী দখলদাররা। দখলদাররা পাকা দোকান-পাট, স্থাপনা নির্মাণ করে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

রেলের এস্টেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের মালিকানাধীন শ্রীমঙ্গল স্টেশন এলাকার ভানুগাছ রোডের পূর্বপাশ সংলগ্ন রূপশপুর মৌজায় জেএল নং ৬৭, খতিয়ান নং-৩, এসএ দাগ-১৭৬১’এ ২৮৭ শতক ভূমি রয়েছে। যার বেশীর ভাগই এখন বেদখল। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় জিআরপি পুলিশের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তাদের সাথে দখলদারদের যোগসাজস থাকায় এই মূল্যবান সম্পদ দীর্ঘ ৪ দশক ধরে বেহাত হয়ে পড়েছে।

রেলের সম্পত্তি উদ্ধারে বিগত ১৬ সালের ১৬ অক্টোবর ও গেল ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর দুই দফা বড় ধরণের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেল বিভাগ। এসময় ভানুগাছ সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কৃষি নার্সারি প্রকল্প, অভিজাত রেস্টুরেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, ফার্নিচারের শোরুম, সেলুন, চা পাতার দোকান, বাসা বাড়ি, ভেরাইটিজ ষ্টোর, ফার্মেসী, হার্ডওয়্যারের দোকান, ওয়ার্কশপ, ট্রান্সপোর্ট অফিসসহ শতাধিক পাকা স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। উদ্ধার করা জমির চৌহিদ্দিজুড়ে লাল ঝান্ডা বসিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু এই অভিযানের এক বছরের কম সময়ের মধ্যে রেলের এসব জমি ধীরে ধীরে দখলদারদের কব্জায় চলে যাচ্ছে। এনিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কিম্বা স্থানীয় প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা দেখা যায়নি। দখলদাররা এখন বলছেন, রেল বিভাগের সাথে ‘সমঝোতা’ করে তারা তাদের জায়গায় ফিরে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে জিআরপি পুলিশের এক শ্রেণীর সদস্য দখলকরা শতাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাসোহারা আদায় করার।

স্থানীয়রা বলেছেন পরিকল্পিত লীজ বন্দোবস্ত দিতে না পারায় রেল বিভাগ প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা মূল্যের এই ২৮৭ শতক ভূমি থেকে ৪ দশকে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

জানতে চাইলে এই জমির দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী/কার্য জুয়েল আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত জমিতে সীমানা দেয়াল দেয়ার জন্য এরি মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আবারো দখল ঠেকাতে গত ১৫ জানুয়ারী ২৭নং স্মারকে কুলাউড়া সার্ভে অফিসার কর্তৃক শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় ১৩ জন চিহ্নিত দখলদারের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এ্ফ আই আর দায়ের করা হয়েছে।

তবে শ্রীমঙ্গল রেল পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন, ‘এনিয়ে কোন লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার কথা অস্বীকার কওে তিনি বলেন, আর এনিয়ে কিছু বলতে পারবোও না। উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তিনি ভাল বলতে পারবেন’ ।

রেলওয়ের ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘সম্প্রতি মৌলভীবাজার আদালতে নতুন করে দায়েরকরা একটি মামলা এই ভূমিতে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। রেল বিভাগ থেকে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সব বাধা দূর করে খুব শিঘ্রিই আবারো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে’।