আ.লীগের উপ-কমিটি গঠনে জটিলতা কাটছে না

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২০

সালাহ উদ্দিন জসিম::
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি গঠনে জটিলতা কাটছে না। কবে নাগাদ ঘোষণা হবে এই কমিটি, সদস্য সংখ্যা কত থাকছে এসব এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা বলছেন, তারা যথা সময়ে কমিটি জমা দিয়েছেন। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

দলের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, প্রায় সব উপ-কমিটিই হয়ে গেছে। দু’একটা বাকি আছে, সেগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে। যেকোনো মুহূর্তে অনুমোদন হবে। দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি সহসাই হচ্ছে না।

ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনের পর আওয়ামী যুবলীগ ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। তারপর আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি অনুমোদন হতে পারে। তবে কমিটির কাজের গতি বাড়াতে ও সাবেক ছাত্রনেতাদের পদায়নের স্বার্থে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মতামত দিয়েছেন সম্পাদকদের অনেকে। দলের পূর্বের সিদ্ধান্ত, উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ জনই থাকছে।

আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি নিয়ে আগ্রহ বেশি সাবেক ছাত্রনেতাদের। ছাত্র সংগঠন থেকে বিদায় নিয়ে দীর্ঘদিন পরিচয়হীন থাকতে হয় বেশিরভাগ ছাত্রনেতাদের। তারা নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা ও অন্তত একটা পরিচয় দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাদের পেছনে ছোটেন। এজন্য দলের মধ্যে উপ-কমিটির কদর একটু বেশি।

এদিকে, সম্প্রতি বেশকিছু ব্যবসায়ী ও নানা পেশার ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ও পরিচয় বিক্রি করে তাদের অপরাধ কা-ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে উপ-কমিটিকে। এজন্য কমিটি গঠনে সদস্য সংখ্যা কমিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যাচাই-বাছাইও করছে।

গঠনতন্ত্রের ৬ ধারায় বিভাগীয় উপ-কমিটি গঠনের বিধান আছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। এতে বলা আছে, প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে একটি করে উপ-কমিটি গঠন করবে। একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যাক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। সংসদীয় কমিটির আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরাও পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য হবেন। তবে এতে নির্ধারিত নেই উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা। বলা হয়েছে, এটি সভাপতি নির্ধারণ করবেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভায় এ উপ-কমিটির সদস্য ৩৫ জনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিকে কম সংখ্যক ও তুলনামূলক পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন একাধিক সম্পাদক। তারা বলছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৮/১০ জন, বিভাগের প্রয়োজনে নানা শ্রেণির বিশেষজ্ঞ রাখতে হয় ১০/১২ জন, এর বাইরে সহযোগী সংগঠনে সভাপতি ও সম্পাদকও আছেনই। কমিটিতে মূল কাজের জন্য সাবেক ছাত্রনেতাদের রাখার রীতি চলে আসছে। কিন্তু সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায়, তাদের সেভাবে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।

সম্পাদকরা বলছেন, উপ-কমিটির মূল কাজ সেমিনার, আলোচনা সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা; এতে কাজ করেন মূলত সাবেক ছাত্রনেতাদের অংশটিই। এখন এই অংশটি কম হলে কাজ তো ভালো হবে না। আর পদ না পেয়ে অনেক ছাত্রনেতা হতাশ হবেন। দুটো দিকই বিবেচনা করে উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা উপ-কমিটি জমা দিয়েছি। সাধারণ সম্পাদক দলীয় প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা আছি।’

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘আমরা যথা সময়ে কমিটি জমা দিয়েছি। বাকিটা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়। আমরা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।’ দলটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খোলা কাগজকে জানিয়েছেন, তিনিও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কমিটি জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘অবমোস্ট সবগুলো উপ-কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ। দু’একটা বাকি আছে, সেগুলো শেষের পথে। অপেক্ষা অনুমোদনের। যেকোনো সময় অনুমোদন হয়ে যাবে।’