বিলুপ্ত হচ্ছে মহল্লা ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

জিনিয়া শেখ::
একটা সময় ছিল পাড়ায় মহল্লায় নানা রকম এলাকাভিত্তিক ক্লাব গড়ে উঠত। সেই ক্লাবকে ঘিরেই হত হৈ হুল্লোড়, জমতো আড্ডা। পুনর্মিলনের জায়গা ছিল এই ক্লাবগুলো। কালের পরিক্রমায় সেই সামাজিক-সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্লাটফর্ম হারিয়েছে, কখনো হয়েছে রাজনৈতিক মঞ্চ। বর্তমানে তেমন ক্লাব দেখা না গেলেও টিকে আছে গুটিকয়েক জায়গায়।

গত শতকের ষাট-সত্তরের দশক অবধি আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক পরিসর ছিল সমৃদ্ধ। পাড়ায় পাড়ায় ছিল গ্রন্থাগার। দেখা যেত এই ক্লাবগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিশুদের উন্নয়ন জোড়দারে কাজ করতো। আবার ক্লাবগুলো সংস্কৃতি চর্চা, ভ্রমণ নিয়ে কাজ করতো। কিন্তু এখন শুধু গুটি কয়েক এলাকাভিত্তিক সংগঠন টিকে আছে।

স্বাধীনতার পর পর এই ক্লাবগুলো খোলা হয়েছিল সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এলাকাভিত্তিক এই ক্লাবগুলোতে গানের আয়োজন, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, বর্ষবরণ, নববর্ষ অথবা বিভিন্ন উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। দেখা যেত পৌষ-পার্বণের মেলা কিংবা যেকোনো বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই এলাকাভিত্তিক ক্লাবগুলো। পাড়ামহল্লায় গড়ে ওঠা এই সকল ক্লাবগুলো যুবকদের অনুপ্রেরণা কিংবা সাংস্কৃতিক মনোভাব ও নৈতিকতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। ক্লাবগুলো ছিল যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যম। কিন্তু কালের বিবর্তনে এলাকাভিত্তিক ক্লাবগুলো বিলুপ্ত প্রায়।

এই এলাকাভিত্তিক ক্লাবগুলোই ছিল যুবকদের নৈতিকতা গঠনের প্রাথমিক মাধ্যম। বর্তমানে যুব সমাজের মাদকের ওপর আসক্ততা এবং ধর্ষণ করার প্রবণতা বৃদ্ধির পিছনে ক্লাবগুলো বিলুপ্তিকেই দায়ী করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

একই সাথে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এলাকাভিত্তিক ক্লাবগুলো বিলুপ্তের কারণে সাংস্কৃতিক চর্চা কমে যাচ্ছে। তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে এবং সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয় হচ্ছে। এছাড়া সমাজে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের প্রভাবে স্বাভাবিক জীবনধারা হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা। কিন্তু মননশীল কাজ করার জন্য সৃজনশীল মানসিকতা খুবই জরুরী। তাই এলাকাভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা ।