লন্ডন ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

য়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন অভিবাসনপ্রার্থীকে গ্রেফতার করার পর এই সহিংসতা শুরু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবাদকারীরা পুলিশের দিকে বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে এবং একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সিটি ওয়েস্ট হোটেলের প্রাঙ্গণে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই হোটেলটি বর্তমানে অভিবাসন আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে পুলিশ ওই ব্যাক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি।

এদিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) হোটেল সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। তারা আইরিশ লাইভস ম্যাটার লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে এবং গেট দেম আউট! স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ছুড়তে শুরু করে।
এসময় একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে ব্যবহার করে।

আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা আমাদের সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দ্বারা অপরাধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অপ্রত্যাশিত নয়। এটি অগ্রহণযোগ্য এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য এর প্রায় দুই বছর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ডাবলিন শহরের কেন্দ্রে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনার (যেখানে সন্দেহভাজনকে আলজেরিয়ার নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল) পরও অভিবাসনবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় কমপক্ষে ১০০ জন চরমপন্থী রাস্তায় নেমে এসে গাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং দাঙ্গা পুলিশের ওপর হামলা করে। সে সময় ৪ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

যদিও আয়ারল্যান্ডের সংসদে বর্তমানে চরম-ডানপন্থী কোনো সদস্য নেই, তবুও আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য জুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডেও গত জুনে একই ধরনের ঘটনায় দুই রোমানিয়ান কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতারের পর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

‘বট’ আইডির কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি-ছাত্রদল নেতা মুর্শেদের পক্ষে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতারা

আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

প্রকাশের সময়: ১০:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

য়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন অভিবাসনপ্রার্থীকে গ্রেফতার করার পর এই সহিংসতা শুরু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবাদকারীরা পুলিশের দিকে বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে এবং একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সিটি ওয়েস্ট হোটেলের প্রাঙ্গণে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই হোটেলটি বর্তমানে অভিবাসন আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে পুলিশ ওই ব্যাক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি।

এদিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) হোটেল সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। তারা আইরিশ লাইভস ম্যাটার লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে এবং গেট দেম আউট! স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ছুড়তে শুরু করে।
এসময় একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে ব্যবহার করে।

আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা আমাদের সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দ্বারা অপরাধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অপ্রত্যাশিত নয়। এটি অগ্রহণযোগ্য এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য এর প্রায় দুই বছর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ডাবলিন শহরের কেন্দ্রে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনার (যেখানে সন্দেহভাজনকে আলজেরিয়ার নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল) পরও অভিবাসনবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় কমপক্ষে ১০০ জন চরমপন্থী রাস্তায় নেমে এসে গাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং দাঙ্গা পুলিশের ওপর হামলা করে। সে সময় ৪ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

যদিও আয়ারল্যান্ডের সংসদে বর্তমানে চরম-ডানপন্থী কোনো সদস্য নেই, তবুও আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য জুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডেও গত জুনে একই ধরনের ঘটনায় দুই রোমানিয়ান কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতারের পর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল।