সুনামগঞ্জে ডাস্টারকাণ্ড: ছাত্রীকে রক্তাক্ত করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমেদকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ক্লাস চলাকালে শিক্ষক ফরুক আহমেদের হাতে ডাস্টারের আঘাতে এক ছাত্রী মাথায় গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরে তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।

বরখাস্তপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ফরুক আহমেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায় দুপুর ৩টার দিকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাসন করে কান ধরে দাঁড় করান প্রধান শিক্ষক। এ সময় সামনের সারিতে বসা এক ছাত্রীকে তিনি বারবার ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেন। আঘাতের ফলে রক্ত ঝরতে শুরু করলে তিনি টিস্যু দিয়ে তা মুছলেও শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে রাখা অবস্থায়ই রাখেন। পরে আরেকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ক্লাসের মেঝেতে রক্ত পরিষ্কার করান বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।

আহত মেয়ের বাবা মুজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়েকে যে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে তার বিচার চাই।

এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনও ঘটনার পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

ট্যাগ:

একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান, ইসরায়েল জুড়ে বাজছে সাইরেন

সুনামগঞ্জে ডাস্টারকাণ্ড: ছাত্রীকে রক্তাক্ত করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

প্রকাশের সময়: ০৯:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমেদকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ক্লাস চলাকালে শিক্ষক ফরুক আহমেদের হাতে ডাস্টারের আঘাতে এক ছাত্রী মাথায় গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরে তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।

বরখাস্তপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ফরুক আহমেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায় দুপুর ৩টার দিকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাসন করে কান ধরে দাঁড় করান প্রধান শিক্ষক। এ সময় সামনের সারিতে বসা এক ছাত্রীকে তিনি বারবার ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেন। আঘাতের ফলে রক্ত ঝরতে শুরু করলে তিনি টিস্যু দিয়ে তা মুছলেও শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে রাখা অবস্থায়ই রাখেন। পরে আরেকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ক্লাসের মেঝেতে রক্ত পরিষ্কার করান বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।

আহত মেয়ের বাবা মুজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়েকে যে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে তার বিচার চাই।

এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনও ঘটনার পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।