লন্ডন ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান নিতে শুরু করেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই তালিকায় সিলেটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নামও উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক হুইপ, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বহু প্রভাবশালী নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই তালিকায় রয়েছেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আইন সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ একাধিক শীর্ষ নেতা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। একই তালিকায় রয়েছেন সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা।

সিলেট অঞ্চলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যেও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং হবিগঞ্জের সাবেক এমপি আবু জাহির ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের আরও কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সেলিম, আরমান আহমদ শিপলু, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মীও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এসব আবেদনের বেশিরভাগের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন এরই মধ্যে সাময়িক আশ্রয় বা প্রাথমিক সুরক্ষা পেয়েছেন। বাকিদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে যুক্তরাজ্যের আদালত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক আশ্রয়সংক্রান্ত প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার পতনের পর দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে।”

তিনি জানান, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র পর্যায়ের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও ১০ থেকে ১৫ জন শীর্ষ নেতা এবং সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার কয়েক শ নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র দুই-তিনজন আগে থেকেই ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
তিনি বলেন, যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব জমা দিয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমানে নাগরিক না হলেও রেসিডেন্ট হিসেবে সেখানে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন।

শফিকুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর ব্রিটেনে অবস্থানরত নেতার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনজন। এর বাইরে যাঁরা বর্তমানে সেখানে আছেন, তাঁদের প্রায় সবাই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন।”

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিটি আবেদন নিষ্পত্তি করে।
যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের সামনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বাস্তব পথ খোলা ছিল না,

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

‘বট’ আইডির কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি-ছাত্রদল নেতা মুর্শেদের পক্ষে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতারা

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

প্রকাশের সময়: ০৬:৪২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান নিতে শুরু করেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই তালিকায় সিলেটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নামও উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক হুইপ, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বহু প্রভাবশালী নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই তালিকায় রয়েছেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আইন সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ একাধিক শীর্ষ নেতা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। একই তালিকায় রয়েছেন সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা।

সিলেট অঞ্চলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যেও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং হবিগঞ্জের সাবেক এমপি আবু জাহির ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের আরও কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সেলিম, আরমান আহমদ শিপলু, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মীও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এসব আবেদনের বেশিরভাগের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন এরই মধ্যে সাময়িক আশ্রয় বা প্রাথমিক সুরক্ষা পেয়েছেন। বাকিদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে যুক্তরাজ্যের আদালত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক আশ্রয়সংক্রান্ত প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার পতনের পর দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে।”

তিনি জানান, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র পর্যায়ের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও ১০ থেকে ১৫ জন শীর্ষ নেতা এবং সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার কয়েক শ নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র দুই-তিনজন আগে থেকেই ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
তিনি বলেন, যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব জমা দিয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমানে নাগরিক না হলেও রেসিডেন্ট হিসেবে সেখানে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন।

শফিকুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর ব্রিটেনে অবস্থানরত নেতার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনজন। এর বাইরে যাঁরা বর্তমানে সেখানে আছেন, তাঁদের প্রায় সবাই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন।”

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিটি আবেদন নিষ্পত্তি করে।
যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের সামনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বাস্তব পথ খোলা ছিল না,