চার পৃষ্ঠা থেকে সবক দেওয়া শুরু। এরপর কখনো ৬ পৃষ্ঠা, কখনো ১০ পৃষ্ঠা, এভাবে সবক দিয়ে মাত্র ৬ মাসে পুরো কোরআন হিফজ করেছে নোয়াখালীর আরাফাত হোসাইন (১২)। ১৮০ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে সে।
আরাফাত হোসাইন নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের উত্তর শুল্লোকিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফেজ মো. আবুল কালাম আজাদের ছোট ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তার বড় ভাই আরিফ হোসাইন একই মাদরাসা থেকে ইতোমধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছেন।
আরাফাত হোসাইন চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখলা গ্রামের জামিয়া মুহাম্মদিয়া নোয়াখলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। সে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কোরআন হিফজের সবক শুরু করে এবং ২০২৬ সালের ১ মার্চ হিফজ সম্পন্ন করে।
শুরুতে প্রতিদিন চার পৃষ্ঠা করে সবক দেওয়া হতো। পরে কখনো ৬ পৃষ্ঠা আবার কখনো ১০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবক দিয়ে মাত্র ৬ মাসেই সে পবিত্র কোরআন হিফজ শেষ করে।
মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা রেজাউর রহমান বলেন, এত অল্প সময়ে পবিত্র কোরআন হিফজ করা একটি বিরল ও আল্লাহপ্রদত্ত নেয়ামত। আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত ছাড়া এমন সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। আরাফাত অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। তার এই অসাধারণ অর্জনে আমরা শিক্ষক ও মাদরাসা পরিবারের সবাই গর্বিত। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আরাফাতকে দ্বীনের খেদমতে কবুল করেন এবং ভবিষ্যতে তাকে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
মাদরাসার জমিদাতা ও সেক্রেটারি এমদাদুল হক কিরণ মোল্লা বলেন, প্রায় ২৬ বছর ধরে স্থানীয় মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসায় মাদরাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য ছাত্র পবিত্র কোরআন হিফজ করে দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে জীবনযাপন করছে। আরাফাতের এই অর্জন আমাদের মাদরাসার জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায়। আমরা আশা করি, সে ভবিষ্যতেও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দ্বীন ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ কারী আব্দুর রশিদ বলেন, মাদরাসা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমি এখানে শিক্ষকতা করে আসছি। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই মাদরাসার ছাত্ররা পড়ালেখা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে সবসময় ভালো অবস্থানে থাকে। এখান থেকে হিফজ সম্পন্ন করা অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। আরাফাতের মতো মেধাবী ছাত্র আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের।
আরাফাতের শিক্ষক হাফেজ মাহবুবুর রহমান বলেন, আরাফাত অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং মনোযোগী ছাত্র। তার শেখার আগ্রহ ও অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। মাদরাসা থেকে তার বাড়ির দূরত্ব অনেক হলেও সে নিয়মিত অধ্যয়ন করেছে এবং কখনো ক্লান্তি দেখায়নি। তার বাবাও একজন হাফেজ, তবে তিনি বর্তমানে অসুস্থ। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন আরাফাতকে সুদীর্ঘ জীবন দান করেন এবং তাকে একজন বড় আলেম হিসেবে দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাফেজ আরাফাত হোসাইন বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এত অল্প সময়ে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার শিক্ষকরা আমাকে অনেক যত্ন ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা দিয়েছেন এবং সবসময় সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমি একজন বড় আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
আরাফাতের মামা এবং জয়াগ মাদরাসার প্রভাষক মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমার দুই ভাগিনা জামিয়া মুহাম্মাদিয়া মাদরাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছে। তাদের পড়াশোনা ও দেখাশোনার দায়িত্ব আমি পালন করেছি। ছোটবেলা থেকেই আরাফাতের মধ্যে কোরআনের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র ৬ মাসে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
চাটখিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি সত্যিই বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছি। মাত্র ৬ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ করা খুবই বিরল ঘটনা। আরাফাত একজন প্রতিভাবান শিশু। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উৎসাহিত করার জন্য সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং তার জন্য সবসময় দোয়া ও শুভকামনা রইল।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 















