হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে ধীরগতি: কৃষকদের দুশ্চিন্তা তুঙ্গে

জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলকে অকাল বন্যা থেকে রক্ষার জন্য এ বছর ৬৭৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৮৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি বড় ভাঙন বা ক্লোজার রয়েছে। ক্লোজার বলতে নদী বা খালের মুখে অস্থায়ী মাটির বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা বা বড় ভাঙন মেরামত করাকে বোঝায়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ১৫টি ক্লোজারে কাজ শুরু হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়েছে আরও কম।

বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা এবং কৃষকের উদ্বেগ

সুনামগঞ্জে প্রায় চার লাখ কৃষক পরিবারের ১০ লাখ মানুষ বোরো চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু হাওরে ক্লোজারে কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৌগলাখালি বাঁধ: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার

জামালগঞ্জের বৌগলাখালি বাঁধটি হাওরের মধ্যে অন্যতম বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার। এটি পাগনা হাওরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাঁধের কাজ শুরু হতে আরও ১০ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছর মেরামতকৃত বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সময়মতো মেরামত না হলে ১২ হাজার কৃষকের ফসল বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ক্লোজারে কাজ না হওয়ার কারণে উদ্বেগ

জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার, যেমন—মাছুয়ার খাড়া, ঘিলটিয়া, এবং আম্মকখালীতেও কাজ শুরু হয়নি। এসব ক্লোজারে দ্রুত কাজ শুরু না করলে আগাম বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে হাওরাঞ্চল।

কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “কাজ দেরি হলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।” অন্যদিকে, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন, “ক্লোজার নির্মাণে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

পাউবো ও প্রশাসনের বক্তব্য

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ১০৫ ক্লোজারের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষকরা আশা করছেন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন করে তাদের কষ্টের ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা হবে। অন্যথায় হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগ:

ছাতক-সিলেট বিদ্যুৎ দপ্তরে ১৫ বছরের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রেকর্ড ফাঁস

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে ধীরগতি: কৃষকদের দুশ্চিন্তা তুঙ্গে

প্রকাশের সময়: ০৬:১৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলকে অকাল বন্যা থেকে রক্ষার জন্য এ বছর ৬৭৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৮৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি বড় ভাঙন বা ক্লোজার রয়েছে। ক্লোজার বলতে নদী বা খালের মুখে অস্থায়ী মাটির বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা বা বড় ভাঙন মেরামত করাকে বোঝায়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ১৫টি ক্লোজারে কাজ শুরু হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়েছে আরও কম।

বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা এবং কৃষকের উদ্বেগ

সুনামগঞ্জে প্রায় চার লাখ কৃষক পরিবারের ১০ লাখ মানুষ বোরো চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু হাওরে ক্লোজারে কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৌগলাখালি বাঁধ: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার

জামালগঞ্জের বৌগলাখালি বাঁধটি হাওরের মধ্যে অন্যতম বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার। এটি পাগনা হাওরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাঁধের কাজ শুরু হতে আরও ১০ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছর মেরামতকৃত বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সময়মতো মেরামত না হলে ১২ হাজার কৃষকের ফসল বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ক্লোজারে কাজ না হওয়ার কারণে উদ্বেগ

জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার, যেমন—মাছুয়ার খাড়া, ঘিলটিয়া, এবং আম্মকখালীতেও কাজ শুরু হয়নি। এসব ক্লোজারে দ্রুত কাজ শুরু না করলে আগাম বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে হাওরাঞ্চল।

কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “কাজ দেরি হলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।” অন্যদিকে, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন, “ক্লোজার নির্মাণে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

পাউবো ও প্রশাসনের বক্তব্য

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ১০৫ ক্লোজারের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষকরা আশা করছেন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন করে তাদের কষ্টের ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা হবে। অন্যথায় হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।