লন্ডন ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেন্দ্রে তলব করেছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানও রয়েছেন। শুক্রবার তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর শনিবার তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সিলেট বিভাগে মিজানুর রহমান ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ৮ নেতা। এদের মধ্যে সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তফসিলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় তথ্যগত ত্রুটি পাওয়ায় অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাতে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা ও তৎপরতা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিলে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রত্যাহারের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত দল অপেক্ষা করবে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গুলশান কার্যালয়ে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রায় প্রতিদিনই কয়েকজন করে প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নেতারা আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও দলের জন্য পরীক্ষিত নেতা। তাদের ক্ষেত্রেও দল বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগে কাজ না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।দলীয় সূত্র জানায়, নিজ নিজ আসনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলমকে পদোন্নতি দিয়ে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বড় রাজনৈতিক দলে প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। আসন সমঝোতা, জোটগত সমীকরণ ও বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাননি, সেখান থেকেই কিছু মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপি বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই এ সমস্যার নিষ্পত্তি হবে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। পরে তিনি এক ভিডিও বার্তায় তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বিএনপির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

‘বট’ আইডির কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি-ছাত্রদল নেতা মুর্শেদের পক্ষে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতারা

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেন্দ্রে তলব করেছেন তারেক রহমান

প্রকাশের সময়: ০২:৩৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানও রয়েছেন। শুক্রবার তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর শনিবার তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সিলেট বিভাগে মিজানুর রহমান ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ৮ নেতা। এদের মধ্যে সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তফসিলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় তথ্যগত ত্রুটি পাওয়ায় অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাতে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা ও তৎপরতা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিলে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রত্যাহারের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত দল অপেক্ষা করবে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গুলশান কার্যালয়ে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রায় প্রতিদিনই কয়েকজন করে প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নেতারা আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও দলের জন্য পরীক্ষিত নেতা। তাদের ক্ষেত্রেও দল বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগে কাজ না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।দলীয় সূত্র জানায়, নিজ নিজ আসনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলমকে পদোন্নতি দিয়ে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বড় রাজনৈতিক দলে প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। আসন সমঝোতা, জোটগত সমীকরণ ও বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাননি, সেখান থেকেই কিছু মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপি বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই এ সমস্যার নিষ্পত্তি হবে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। পরে তিনি এক ভিডিও বার্তায় তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বিএনপির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।