লন্ডন ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট বিভাগে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে অস্বস্তি: কঠিন চ্যালেঞ্জ

সিলেট বিভাগের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে দল ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। যদিও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবু অন্তত চারটি আসনে এখনো বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী লড়াই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সমাধানের প্রত্যাশা করেছিলেন জোটের নেতারা।

সিলেট-৫ : বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার হলেও মাঠে সক্রিয়

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন ছেড়ে দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তবে দীর্ঘদিনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি প্রচারণা আরও জোরদার করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্মপ্রাণ ভোটারের আধিক্যের কারণে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মামুনুর রশীদের তৃণমূল জনপ্রিয়তা ও অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার নজির এই আসনের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

হবিগঞ্জ-১ : রেজা কিবরিয়ার সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু সবচেয়ে আলোচিত। এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তাঁর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো এবারও মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ। স্থানীয়ভাবে তাঁর শক্ত অবস্থান থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মৌলভীবাজার-৪ : মেয়র মধুর জনপ্রিয়তায় দুশ্চিন্তা

মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমানকে। তবে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র মহসিন মিয়া মধু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা।

মহসিন মিয়া মধু বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই নির্বাচনে আছি।”

সুনামগঞ্জ-৪ : অনড় অবস্থানে দেওয়ান জয়নুল

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তারেক রহমানের নির্দেশে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জয়নুল জাকেরীন এখনো অনড়।

তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের সমর্থনেই আমি নির্বাচন করছি।”

দলীয় অবস্থান

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ বলেন, “আমরা এখনও হতাশ নই। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি দেখছেন। অনেকেই সরে দাঁড়াবেন বলে আশা করছি। কেউ না সরলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীদের সমান্তরাল প্রচারণায় সিলেট বিভাগের এসব আসনের নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

‘বট’ আইডির কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি-ছাত্রদল নেতা মুর্শেদের পক্ষে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতারা

সিলেট বিভাগে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে অস্বস্তি: কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের সময়: ০৯:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট বিভাগের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে দল ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। যদিও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবু অন্তত চারটি আসনে এখনো বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী লড়াই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সমাধানের প্রত্যাশা করেছিলেন জোটের নেতারা।

সিলেট-৫ : বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার হলেও মাঠে সক্রিয়

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন ছেড়ে দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তবে দীর্ঘদিনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি প্রচারণা আরও জোরদার করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্মপ্রাণ ভোটারের আধিক্যের কারণে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মামুনুর রশীদের তৃণমূল জনপ্রিয়তা ও অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার নজির এই আসনের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

হবিগঞ্জ-১ : রেজা কিবরিয়ার সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু সবচেয়ে আলোচিত। এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তাঁর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো এবারও মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ। স্থানীয়ভাবে তাঁর শক্ত অবস্থান থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মৌলভীবাজার-৪ : মেয়র মধুর জনপ্রিয়তায় দুশ্চিন্তা

মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমানকে। তবে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র মহসিন মিয়া মধু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা।

মহসিন মিয়া মধু বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই নির্বাচনে আছি।”

সুনামগঞ্জ-৪ : অনড় অবস্থানে দেওয়ান জয়নুল

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তারেক রহমানের নির্দেশে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জয়নুল জাকেরীন এখনো অনড়।

তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের সমর্থনেই আমি নির্বাচন করছি।”

দলীয় অবস্থান

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ বলেন, “আমরা এখনও হতাশ নই। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি দেখছেন। অনেকেই সরে দাঁড়াবেন বলে আশা করছি। কেউ না সরলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীদের সমান্তরাল প্রচারণায় সিলেট বিভাগের এসব আসনের নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।