আমার পাঁচটা মেয়ে। স্বামী অনেকদিন ধরেই অসুস্থ, কাজ করতে পারে না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে। অনেক সময় ধার-দেনা করে চলতে হয়। এই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পাইয়া মনে হইতেছে কেউ আমাদের কষ্টটা বুঝছে। কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আকিলশাহ গ্রামের হতদরিদ্র নারী রোমানা বেগমের।
পাঁচ কন্যা সন্তানের জননী রোমানা বেগমের স্বামী একজন দিনমজুর। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। সংসারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট ছোট সন্তানদের দেখাশোনা করার পাশাপাশি সংসারের চাকা ঘোরাতে রোমানা বেগমকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতে হয়। তবুও অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা।
তিনি বলেন, বাচ্চাদের রেখে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে যাই। অনেক সময় কাজও পাই না। তখন খুব কষ্ট হয়। এই সহায়তার টাকা পাইয়া মনে হইতেছে আল্লাহ আমাদের দিকে তাকাইছেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও একটু স্বস্তি পাইছি।
দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিয়ারপাড়, আকিলশাহ ও হাতিয়া রাধানগর এই তিনটি গ্রামে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রউফ জুনিয়র স্কুল প্রাঙ্গণে উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিয়মিত ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। দিরাই উপজেলার তিনটি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিতে পারে। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সরকারের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রথমবারের মতো কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ জন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকাভুক্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ায় এলাকার অনেক হতদরিদ্র পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন তারা।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 

















