ঈদের দিনে নানা বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হলো না মাদরাসার ছাত্রী সুফিয়া বেগমের। পথিমধ্যে সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে ডুবতে থাকা খেয়া নৌকা থেকে পড়ে তার ছোট ২ ভাই-বোন বেঁচে গেলেও সলিল সমাধি হয়েছে সুফিয়ার।
শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর লাউড়ের গড় জাদুকাটা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সুফিয়া বেগম (১০) তাহিরপুর উপজেলার লাউড়ের গড় গ্রামের সতু মিয়ার মেয়ে। তাকে এবার স্থানীয় মাদরাসায় আওয়াল (১ম) শ্রেনীতে ভর্তি করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওইদিন বিকালে উপজেলার জাদুকাটা নদীর ওপারে শিমুলবাগান এলাকায় মানিগাওয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল সুফিয়া ও তার ছোট দুই ভাই-বোন সুহেদা (৮) ও রুমান (৬)। কিন্তু লোকজন বেশি ওঠায় খেয়া নৌকা ডুবতে শুরু করে এবং শিশু ৩টি নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক সুহেদা ও রুমানকে উদ্ধার করা গেলেও সুফিয়া নদীতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুজি করে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পথে তাহিরপুর থানার এসআই দীপক দাস বলেন, সুফিয়া তার দুই ভাই-বোন নিয়ে নদীর ওপারে শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। নদী পারাপারে খেয়া নৌকায় লোকজন বেশি ওঠে পড়েন। এতে নৌকা ডুবতে লাগলে শিশু ৩টি নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক ২টি শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও সুফিয়া পানিতে ডুবে মারা যায়। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি।
সুফিয়ার পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তাকে এবারই প্রথম মাদরাসায় আওয়াল শ্রেনীতে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল করা হয়। পরে নিহতের বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ বিনা ময়না তদন্তে দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 


















