লন্ডন ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘না’ দিলেও দেশের উন্নতি চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ: বায়তুল মোকাররমের খতিব

ণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।সাম্প্রতিক এক খুতবায় তিনি গণভোট সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ খুতবা গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর মধ্যে যেহেতু অনেক অন্যায় কথা আছে, তাই আপনি বুঝেশুনে ভোট দেন। ‘না’ ভোট দিলে দেশের উন্নতি কখনই বাধাগ্রস্ত হবে না। নিয়ত ও কিসমত ভালো থাকলে ‘না’ ভোট দিলেও দেশের উন্নতি চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও নিয়ত ও কিসমত ভালো না থাকলে কোন লাভ হবে না।ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আব্দুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তা-ভাবনা করা, অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি। তিনি কামনা করেন, যেন এমন ব্যক্তিরাই ক্ষমতায় আসেন, যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি আছে এবং মানুষের প্রতি দয়া-মমতা রয়েছে।খুতবার মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু ভোটের ওপর নির্ভর করে না; শাসকদের নিয়ত ও জনগণের ভাগ্যের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে বিবেক দিয়ে ভোট দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

ট্যাগ:

৫৪ বছর দেশের টাকা লুট হয়েছে, কেউ ফেরেস্তা ছিলেন না: সিলেটে জামায়াত আমির

গণভোটে ‘না’ দিলেও দেশের উন্নতি চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ: বায়তুল মোকাররমের খতিব

প্রকাশের সময়: ০৩:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।সাম্প্রতিক এক খুতবায় তিনি গণভোট সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ খুতবা গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর মধ্যে যেহেতু অনেক অন্যায় কথা আছে, তাই আপনি বুঝেশুনে ভোট দেন। ‘না’ ভোট দিলে দেশের উন্নতি কখনই বাধাগ্রস্ত হবে না। নিয়ত ও কিসমত ভালো থাকলে ‘না’ ভোট দিলেও দেশের উন্নতি চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও নিয়ত ও কিসমত ভালো না থাকলে কোন লাভ হবে না।ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আব্দুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তা-ভাবনা করা, অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি। তিনি কামনা করেন, যেন এমন ব্যক্তিরাই ক্ষমতায় আসেন, যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি আছে এবং মানুষের প্রতি দয়া-মমতা রয়েছে।খুতবার মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু ভোটের ওপর নির্ভর করে না; শাসকদের নিয়ত ও জনগণের ভাগ্যের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে বিবেক দিয়ে ভোট দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।