লন্ডন ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের সাবেক তিন নেতার জয়ে উজ্জীবিত জাতীয়তাবাদী তরুণরা

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে তিনটি আসনে ছাত্রদলের সাবেক নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতারা এনে দিয়েছেন ভূমিধস বিজয়। বিজয়ী এই ছাত্র নেতাদের সুনামগঞ্জের জাতীয়তাবাদী আদর্শের মানুষজন ছাত্রদলের ‘সোনালী অর্জন’ হিসেবে জানেন। সাবেক এই ছাত্রনেতা ও তিন তরুণের জয়ে উজ্জীবিত জেলার জাতীয়তাবাদী দলের তরুণ নেতাকর্মীরা।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল স্কুল ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা এক সাহসী তরুণ। এরপরে তিনি তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কামরুল ২০১৬ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই সময় এলাকার সাধারণ মানুষ চাঁদা তুলে তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করেন। এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নবঞ্চিত হন তিনি। পরে চারটি উপজেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার মনোনয়নের জন্য প্রতিদিন মিছিল-মিটিং করেন। পরবর্তীতে তাকে বিকল্প মনোনয়ন দেওয়া হয়। শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে তার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এরপরই দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজনও তার পক্ষে মাঠে নামেন। শেষ পর্যন্ত তিনি জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন কামরুজ্জামান কামরুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট। কামরুলের সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ৬৮ হাজার ৮০৮ ভোট। তার বিজয়ে আসনের তরুণ জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ উজ্জীবিত। তারা নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জগন্নাথপুর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নির্যাতিত নেতা যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা এই নেতা ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন। বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে অবশেষে তিনি কাঙ্ক্ষিত বিজয় পেলেন। কয়ছর এম আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। ছাত্রদলের সাবেক ত্যাগী নেতা কয়ছর এম আহমদের বিজয়ে উজ্জীবিত জেলার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতারা।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি, সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। রাজপথের সাহসী, সক্রিয় ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে তিনি তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার বিজয়েও উজ্জীবিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আগামী দিনের তরুণরা। নূরুল এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট শামছ উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনসহ তিনটি আসনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের জয়ে আমরা উজ্জীবিত। এই জেলার লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী তরুণ তাদেরকে আইডল ভাবে। জেল-জুলুম সয়ে, হুলিয়া মাথায় নিয়ে কিভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয় তারা একেক জন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ট্যাগ:

ছাত্রদলের সাবেক তিন নেতার জয়ে উজ্জীবিত জাতীয়তাবাদী তরুণরা

প্রকাশের সময়: ০২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে তিনটি আসনে ছাত্রদলের সাবেক নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতারা এনে দিয়েছেন ভূমিধস বিজয়। বিজয়ী এই ছাত্র নেতাদের সুনামগঞ্জের জাতীয়তাবাদী আদর্শের মানুষজন ছাত্রদলের ‘সোনালী অর্জন’ হিসেবে জানেন। সাবেক এই ছাত্রনেতা ও তিন তরুণের জয়ে উজ্জীবিত জেলার জাতীয়তাবাদী দলের তরুণ নেতাকর্মীরা।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল স্কুল ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা এক সাহসী তরুণ। এরপরে তিনি তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কামরুল ২০১৬ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই সময় এলাকার সাধারণ মানুষ চাঁদা তুলে তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করেন। এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নবঞ্চিত হন তিনি। পরে চারটি উপজেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার মনোনয়নের জন্য প্রতিদিন মিছিল-মিটিং করেন। পরবর্তীতে তাকে বিকল্প মনোনয়ন দেওয়া হয়। শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে তার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এরপরই দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজনও তার পক্ষে মাঠে নামেন। শেষ পর্যন্ত তিনি জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন কামরুজ্জামান কামরুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট। কামরুলের সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ৬৮ হাজার ৮০৮ ভোট। তার বিজয়ে আসনের তরুণ জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ উজ্জীবিত। তারা নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জগন্নাথপুর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নির্যাতিত নেতা যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা এই নেতা ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন। বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে অবশেষে তিনি কাঙ্ক্ষিত বিজয় পেলেন। কয়ছর এম আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। ছাত্রদলের সাবেক ত্যাগী নেতা কয়ছর এম আহমদের বিজয়ে উজ্জীবিত জেলার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতারা।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি, সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। রাজপথের সাহসী, সক্রিয় ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে তিনি তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার বিজয়েও উজ্জীবিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আগামী দিনের তরুণরা। নূরুল এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট শামছ উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনসহ তিনটি আসনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের জয়ে আমরা উজ্জীবিত। এই জেলার লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী তরুণ তাদেরকে আইডল ভাবে। জেল-জুলুম সয়ে, হুলিয়া মাথায় নিয়ে কিভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয় তারা একেক জন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।