বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম-এর ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পী বাংলা লোকসংগীতকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মধ্যেই বেড়ে ওঠা শাহ আবদুল করিম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রসর হতে না পারলেও জীবন ও প্রকৃতিকেই করেছেন তাঁর পাঠশালা। হাওর-বাঁওড়, নদী, কৃষকের ঘাম, মাঝির বৈঠা আর গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর গানে পেয়েছে গভীর ও হৃদয়ছোঁয়া প্রকাশ।
প্রেম, মানবতা, আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক প্রতিবাদের সুরে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য গান, যার অনেকগুলোই আজ লোকসংগীতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। জীবনের দীর্ঘ সময় অবহেলা ও আর্থিক কষ্টে কাটালেও পরবর্তীতে তিনি জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেন এবং একুশে পদকে ভূষিত হন।
২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রয়াণ ঘটলেও তাঁর গান আজও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সমানভাবে অনুরণিত হচ্ছে।
প্রতি বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি দিরাই উপজেলার ভাটি ধলে বর্ণাঢ্য লোক উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসব ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পী, বাউল, গবেষক ও ভক্তরা সমবেত হন গান, আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হয়।
তবে এ বছর ১১০তম জন্মবার্ষিকীতে সেই নিয়মিত লোকউৎসবের আয়োজন করা হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলমান জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরের আয়োজন থেকে বিরত থাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে তাঁর ছেলে শাহ নুর জালাল জানান, যথাযথ পরিবেশ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারায় এবারের উৎসব স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী মার্চের শেষের দিকে লোকউৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বড় আয়োজন না থাকলেও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভক্ত ও অনুসারীরা নিজ নিজ উদ্যোগে দোয়া, মিলাদ ও ছোট পরিসরের স্মরণসভা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময়ে লোকউৎসব অনুষ্ঠিত না হলেও তা আরও ব্যাপক ও প্রাণবন্ত আয়োজনে সম্পন্ন হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাউল সম্রাটের জীবনদর্শন ও গানের বার্তা আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেবে। ভাটির মাটির গন্ধমাখা তাঁর সুর আজও মানুষকে ভালোবাসা, সাম্য ও মানবতার পথে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 














