গণ অভ্যুত্থান দিবসে দিরাই বিএনপিতে দুই বলয়ের পৃথক সমাবেশের ঘোষণা: শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতিতে দুই পক্ষ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির দুই বলয় পৃথক সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় উপজেলা জুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। উভয় পক্ষই কর্মসূচি সফল করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন ও বাজারভিত্তিক মতবিনিময় সভা, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা আগামী ৬ আগস্ট দিরাই থানা পয়েন্টে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা এবং সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল সমর্থিত নেতাকর্মীরা ৮ আগস্ট দিরাই বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, দুই সমাবেশকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থনের বার্তা দিতে চায়। এ কারণে উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্য অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলের কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলয়ের পক্ষে জেলা বিএনপির সদস্য আবদুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারে মতবিনিময় সভা করছেন। একইভাবে পাবেল বলয়ের পক্ষে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথকভাবে গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সমাবেশে লোকসমাগম নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছেন। অনেক স্থানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, একই ইস্যুকে সামনে রেখে অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন দিরাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার কথা বলছে।

এ বিষয়ে দিরাই বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, দুই পক্ষই প্রতিদিন বাজারে এসে কর্মসূচির কথা জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ চায় রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে হোক এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক।

শিক্ষক মিঠুন সরকার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেটিই সবার প্রত্যাশা।

পরিবহন শ্রমিকেরা বলেন, যেহেতু থানা পয়েন্টে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে শহরে বড় সমাবেশ হলে যান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়ে। প্রশাসন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। দিবসটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করে পালন করা হয়।

ট্যাগ:

দিরাইয়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

গণ অভ্যুত্থান দিবসে দিরাই বিএনপিতে দুই বলয়ের পৃথক সমাবেশের ঘোষণা: শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতিতে দুই পক্ষ

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির দুই বলয় পৃথক সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় উপজেলা জুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। উভয় পক্ষই কর্মসূচি সফল করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন ও বাজারভিত্তিক মতবিনিময় সভা, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা আগামী ৬ আগস্ট দিরাই থানা পয়েন্টে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা এবং সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল সমর্থিত নেতাকর্মীরা ৮ আগস্ট দিরাই বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, দুই সমাবেশকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থনের বার্তা দিতে চায়। এ কারণে উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্য অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলের কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলয়ের পক্ষে জেলা বিএনপির সদস্য আবদুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারে মতবিনিময় সভা করছেন। একইভাবে পাবেল বলয়ের পক্ষে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথকভাবে গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সমাবেশে লোকসমাগম নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছেন। অনেক স্থানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, একই ইস্যুকে সামনে রেখে অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন দিরাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার কথা বলছে।

এ বিষয়ে দিরাই বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, দুই পক্ষই প্রতিদিন বাজারে এসে কর্মসূচির কথা জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ চায় রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে হোক এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক।

শিক্ষক মিঠুন সরকার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেটিই সবার প্রত্যাশা।

পরিবহন শ্রমিকেরা বলেন, যেহেতু থানা পয়েন্টে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে শহরে বড় সমাবেশ হলে যান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়ে। প্রশাসন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। দিবসটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করে পালন করা হয়।